}

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি জাতিকে বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কিছু এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো এদেশের কিছু মুক্তো বের করে আনে। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ তার একটি। আমরা আজ এই বিখ্যাত কলেজ সম্পর্কে জানব। আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ। অনেক প্রাচীন এই কলেজে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং সমাজসংস্কারক আনন্দমোহন বসুর নামে এই কলেজের নামকরণ করা হয়েছে। আসুন শুরুতে আমরা জেনে নেই এই কলেজের ইতিহাস। আনন্দ মোহন বসু ১৮৮৩ সালে নিজ বাড়িতে ময়মনসিংহ ইন্সটিটিউশন গঠন করেন। এর আগে ১৮৭৮ সালের দিকে তিনি সিটি কলেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়েন। ময়মনসিংহ ইন্সটিটিউটকে তিনি ১৮৯০ সালে  ময়মনসিংহে সিটি কলেজিয়েট স্কুল নামে রুপান্তর করেন। ১৮৯৯ সালের দিকে ময়মনসিংহ সভা ও আঞ্জুমানে ইসলামিয়া নামক দুটি কমিটি ময়মনসিংহে একটি কলেজ খোলার আবেদন জানায়। তখন আনন্দমোহন বসুর সাহায্যে ১৯০১ সালে সিটি কলেজিয়েট স্কুলকে ময়মনসিংহ সিটি কলেজে রুপান্তর করা হয়। এটি কলকাতা সিটি কলেজের শাখা ছিল তখন। ১৮ জুলাই এটি করা হয়। এই কলেজ কলকাতা সিটি কলেজ কাউন্সিলের অধীনে থেকে আর্থিক সাহায্য লাভ করত। ১৯০৮ সালে তারা আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়। এরপর ওই বছরেই এটির নাম বদলে আনন্দ মোহন কলেজ করা হয় এবং স্থান বদলে কাচিঝুলিতে নেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রদান শুরু হয় ১৯০৯ সাল থেকে। তখন ছাত্র সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭৮ জন। আর ৯ জন শিক্ষক ছিলেন কলেজ

? শিক্ষাদানের জন্য। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসে। কলেজটি পাকিস্তান আমলে সরকারি করা হয়। ১৯৬৪ সালে সরকারি কলেজে একে রুপান্তর করা হয়।

 


সরকারি করা হলে কলেজকে সম্প্রসারণ করা হয় এবং বাংলা ও ইতিহাস বিভাগে অনার্স কোর্স চালু হয়। তখন অনেক উন্নয়ন করা হয় এই কলেজের। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে আরও কিছু কোর্স চালু করা হয়। ৯০ এর দশকের দিকে কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয় এবং এই সময়ে অন্যান্য বিষয়ের কোর্স চালু হয়। আনন্দ মোহন কলেজ এ বর্তমানে ১৮টি বিষয়ের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী দেওয়া হচ্ছে। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের তিনটি বিভাগ বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যাবসায় শিক্ষার উপর শিক্ষাদান করা হয়। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় বেশ কিছু ছাত্র অনেক ভাল জায়গায় ভর্তি হয় এই কলেজ থেকে।

 

 

Source:

Link1

Please follow and like us: