একদিনে কাপ্তাই ভ্রমন !

রাত ৮.৩০ 
হঠাৎ করেই রবিন ফোন দিয়ে বলল যে ওদের সাথে আজ রাতেই আমাকে যেতে হবে। শুরুতেই কোন কিছুতে না করে দেওয়া আমার খুব বাজে একটা অভ্যাস শুধু চায়ের দাওয়াত ছাড়া! স্বভাবতই না করে দিলাম যে আমি যাবো না। এই কথা শুনার পর রবিন বলল, তাহলে এক কাজ কর তোর যেতে হবে না তুই শুধু সায়েদাবাদ এসে দেখা করে গেলেই হবে।আর শোন আগে গেলে তিনটা টিকেট কেটে রাখিস, এইটা শুনে রাজি হলাম যে দেখা করতে যাবো। এক ঘণ্টা পর, বাহির যেহেতু হবিই সাথে ব্যাগ নিয়েই বাহির হয়ে আয়,একটা দিনই তো! শেষে অনেক সাত পাঁচ ভেবেই বাহির হলাম।বাসা থেকে বাহির হচ্ছি আর ভাবছি এতো কম সময়ের প্ল্যানে একবারই শুধু মাত্র সিলেটেই গিয়েছিলাম তাও সেই বহু বছরের আগের ঘটনা আর সে ঘটনার কংকালও হয়তো এখন খুঁজে পাওয়া যাবে না!

অবশেষে কাপ্তাইয়ে যাওয়ার শেষ বাসটা কোনমতে ধরতে পারলাম তাও আবার বাসের শেষ সীট তিনটা।গাড়ী কাপ্তাইয়ের দিকে ছুটে চলছে, ড্রাইভার খুব পাকা হাতেই গাড়ি চালাচ্ছে। 

ভোরের আলো পড়তে শুরু করেছে, আমরাও কাপ্তাই এর খুব কাছাকাছি। তবে কাপ্তাই যাওয়ার বা আসার রাস্তার বর্ননা লিখে প্রকাশ করা কোনভাবেই সম্ভব না! রাস্তাগুলা অসাধারন, মন খারাপ করে বাসে উঠলেও আপনার মন ভালো হতে বাধ্য আর যদি চোখে ঘুমও থাকে তাহলে তো রাস্তা দেখে সুবহান আল্লাহ্‌ বলে পালাবে।যাইহোক বড়ইছড়ি পার হতেই, রাস্তাগুলা মনে হলে আরও বেশি সুন্দর হয়ে আসছিলো। কিছুদূর যাওয়ার পরই %E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BF&type=Tourism&type_id=20&institute=Kaptai-National-Park&home_bn=%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BF&home=Rangamati" target="_blank">কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব,জুম রেস্তোরা- এইখান থেকে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলীতে কম খরচে ঘন্টা হিসাবে কায়াকিং করতে পারবেন।এইখানে কায়াকিং করার জন্যে বেশ কিছু পয়েন্ট রয়েছে, চাইলে ইচ্ছেমত জায়গা থেকে কায়াকিং করা যাবে। তারপর ফ্লোটিং প্যারাডাইস থেকে খাবার খেতে খেতে দেখতে পাবেন নদী পাহাড়ের মিলনমেলা, খাবার যথেষ্ট ভালো। তারপরই প্রশান্তি পার্ক তবে এইটা এতোটা ভালো লাগে নি।খুব ভোর হওয়ায় যাওয়ার সময় আর নামা হয় নাই। আমরা চলে যাই একদম শেষ গন্তব্য কাপ্তাই জেটি ঘাট এইটা কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ এর সাথেই।

নেমে ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ পড়েই জেটি ঘাঁটে চলে যাই।এইখান থেকে রাঙ্গামাটি বিলাইছড়ী যাওয়ার লোকাল আর রিজার্ব ট্রলার পাওয়া যায়। আমরা নাস্তা করে জেটি ঘাট থেকে চলে গেলাম জিবতলির ক্যাম্পের রাস্তার দিকে গন্তব্য ছিল লেকশর রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পট।এইখানে ঘন্টার হিসাবে পুলে সাঁতার কাঁটা তাছাড়া আশেপাশের সৌন্দর্য বিশেষ করে হ্যালিপ্যাডের উপর থেকে লেকের পানিগুলা একদম সবুজ মনে হয়। কাপ্তাই এর সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা এইট

?, জেটি ঘাট থেকে পথের দূরত্ব মাত্র ৬.৫ কিলোমিটার। লেকশর যাওয়ার আগে নেভি ক্যাম্প পড়বে সেইখানে নাম এন্ট্রি করে টিকেট কেটে নিলাম। লেকশর রিসোর্টে নেমেই আশে পাশে ঘুরে পুলে নামার জন্যে অপেক্ষা করতেছিলাম। অবশেষে সকাল ১০টায় নামার সুযোগ পেলাম। কাপ্তাই লেকের পাশেই পুলটা! কিছুক্ষন পুলে কাটিয়ে প্রশান্তি পার্ক আর ফ্লোটিং প্যারাডাইস হয়ে আবার ফিরে আসলাম জুম রেস্তোরা সেইখান কিছু সময় থেকে সন্ধ্যায় চলে আসছি চট্টগ্রামে। তারপর রাতের বাসে ঢাকায়।

ঢাকার বাইরে নিরিবিলিতে কম খরচে একদিনে ঘুরার জন্যে কাপ্তাই জায়গাটা অসাধারন ❤❤

যেইখানেই ঘুরতে যাই না কেন আমাদের দ্বারা যেন পরিবেশ নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

 

Source:
fb Group: বিডি ট্রাভেলার্স (BD Travelers)
By Member: Muhammad Abu Saleh
Date: 08 July 2019

Please follow and like us: