}

আমাদের দেশে অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো বেশ ঐতিহ্যবাহী। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশ প্রাচীন আমলে তৈরি এবং অনেক বিখ্যাত এবং গুণী ব্যাক্তি এসব প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন। আমাদের আজকের লেখার বিষয় ঠিক তেমনি একটি বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেটি বেশ প্রাচীন আমলে তৈরি, এবং এখনও এর শিক্ষাপ্রদান চলছে। আমরা আজ জানব রংপুরের বিখ্যাত কারমাইকেল কলেজ সম্পর্কে।
 

 

কারমাইকেল কলেজ
কারমাইকেল কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন একটি কলেজ। এটি রংপুরে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আজও হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষা গ্রহন করছে। এই কলেজের নামকরণ হয়েছে তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড ব্যারন কারমাইকেলের নামে। রংপুরে তখন ভাল কোন কলেজ ছিলনা। একবার রংপুর জিলা স্কুলে কলেজ শাখা খুললেও ছাত্রের অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। তখন শুধু এই উত্তরাঞ্চলের আশে পাশে কুচবিহার কলেজ ছিল। কিন্তু রংপুর, দিনাজপুর, মালদহ, জলপাইগুড়ি, বগুড়ায় ভাল কোন কলেজ ছিলনা। রংপুরের কুন্তির জমিদার মৃত্যুঞ্জয় রায় চৌধুরী নিজে ১২৫ বিঘা জমি দান করেন যেন এখানে একটি ভাল কলেজ হয়। কিন্তু সরকার অনুমোদন দেয়না। ফলে সেটি হয়ে উঠেনা। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৯১৩ সালে লর্ড কারমাইকেল রংপুরে

আসেন। সেখানে কলেজের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। লর্ড কারমাইকেল সবাইকে বলেন অন্তত তিন লক্ষ্ টাকা দরকার হবে কলেজ নির্মাণে।

 

 

জে এন গুপ্ত ছিলেন তৎকালীন জেলা কালেক্টর। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে রংপুরের জমিদারদের এবং ধনী লোকদের কাছে আবেদন জানান। সবাই তাঁর আবেদনে সাড়া দেন। এবং সবাই কে কত টাকা দিবে তা মুখে বলে খাতায় লিখে সই করেন। এখানে একটি মজার ঘটনা ঘটে। টেপার জমিদার ছিলেন অন্নদা মোহন রায় চৌধুরী। তিনি মুখে বলেন দশ হাজার টাকা (১০,০০০) কিন্তু খাতায় ভুলে একটি শুন্য বেশি দিয়ে লেখেন এক লক্ষ্য টাকা (১,০০,০০০)। যখন সবার দান করা টাকার পরিমান পড়ে শোনানো হচ্ছিল, তখন এই এক লক্ষ্য টাকার কথা শুনে টেপার জমিদার অনেক বিচলিত হয়ে পরেন। অনেকে বলেন তিনি মূর্ছা যান। কিন্তু মজার ব্যাপার হল তিনি পুরো টাকা দেন। তাঁর এই দানের জন্য তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়। তাঁর নাম অনুযায়ী কলেজের মুল ভবনের মাঝের ঘরের নাম করা হয় অন্নদা মোহন হল। এছাড়া দানকারী সবার নাম পাথরের ফলকে লিখে রাখা হয়। তাঁর নামটিও সবার প্রথমে রাখা হয়েছে। মোট ২৮জন দাতা এতে দান করেন। এছারাও অনেকে জমি দান করেন। জমি দানের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন সুরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরী। তিনি ও তাঁর ভাই মিলে প্রায় চারশ বিঘা জমি দান করেন।

কারমাইকেল কলেজ

 

 

কারমাইকেল কলেজ

টাকার পরিমাণ হয় ৪ লক্ষ্য টাকা। এরপর লর্ড কারমাইকেল ১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর রংপুরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কারমাইকেল কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের

?ন্তর্ভুক্ত হয়। জার্মানির ডঃ ওয়াটকিন হন অধ্যক্ষ। ১৯৪৭ সালে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর সবশেষে ১৯৯২ সালে এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে আসে। বর্তমানেও এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আছে।

 

১৯২৫ সাল থেকে এখানে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক শুরু হয়। ৭০০ একর জমি নিয়ে কারমাইকেল কলেজের বিশাল ক্যাম্পাস। এখানে আছে একটি মসজিদ, ক্যান্টিন, বিভাগীয় ভবন, ছাত্রাবাস, খেলার মাঠ। এখানে ছাত্রদের জন্য চারটি হল আছে। এর মধ্যে একটি হল হিন্দুদের ও তিনটি মুসলিমদের। হলগুলো হলঃ জি এল ছাত্রাবাস, ওসমানী ছাত্রাবাস ও সিএম ছাত্রাবাস। হিন্দু ছাত্রদের জন্য কে বি ছা ্রাবাস। আর মেয়েদের জন্য আছে তিনটি হল। তাপসী রাবেয়া হল, বেগম রোকেয়া হল ও জাহানারা ইমাম হল। এখানে প্রায় ২৪,০০০ ছাত্রছাত্রী পরছে বিভিন্ন অনুষদে ও বিভাগে। এখানে শিক্ষকদের জন্য আবাসিক ব্যাবস্থা আছে।

 

এই কলেজে অনেক বিখ্যাত মানুষ পড়েছেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, আনিসুল হক, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছাড়াও আরও অনেক রাজনীতিবিদ, কবি, অভিনেতা, সংগ্রামী নেতা এখানে পড়েছেন। এই কলেজ রংপুরের ঐতিহ্য। সাথে বাংলাদেশেরও।

 

 

সূত্র

Link

Link