}

 চট্টগ্রামের শুঁটকি বলে কথা, বন্দর নগরী শুঁটকির জন্য বিখ্যাত একথা সবার জানা। চট্টগ্রামের শুঁটকি একবার যে খেয়েছে সে কখনো জীবনে ভুলতে পারেনা সে স্বাদ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকে চট্টগ্রাম শহরে বেড়াতে আসলে বা কক্সবাজার গেলে পরিবারের জন্য শুঁটকি ছাড়া ফেরেনা প্রায় কেউই। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর কর্ণফুলি নদীর তীরে বিশাল এলাকজুড়ে বাঁশের মাচা তৈরী করে লম্বা লম্বা সারি করে শুঁটকি শুকানোর জন্য সাজিয়েছে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। ঢুকতে শুঁটকি মাছের সুবাসিত গন্ধ চারিদিকে, শুঁটকি মাছের মাচা আর মাছ শুকানোর দৃশ্য, শতশত নারী পুরুষ শ্রম দিয়ে শুঁটকি শুকানোর কাছ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত চট্টগ্রামের সকল শুঁটকিপট্টিতে । এই শুঁটকিপট্টি থেকে তৈরি হয়েছে অসংখ্য কর্মসংস্থানের, আবার অনেকে বেতন কম বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

 

এদিকে লইট্যা মাছ, পোয়া মাছ, ছুরি মাছ, চিংড়ি মাছ, মইল্যা মাছ, রুপচাঁদা মাছ, ফাইস্যা মাছ, ছোট হাঙ্গর মাছ আরও নানা প্রজাতির মাছ শুকানো হচ্ছে কর্ণফুলি নদীর পাড়ে। জানা গেছে, এসব মাছ শুকাতে সময় লাগে ১৫-২০ দিনের মতো। সকল শুঁটকি মাছ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করার পর বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শীতের দিনে চরম রোদের মাঝে শুঁটকি বেশী শুকানো হয় এবং বেচাকেনা ভালো হয়। তাছাড়া বর্ষার সময় তেমন ব্যবসা সফল হয়না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বর্ষার সময় সবাইকে বেকার বসে থাকতে হয় কারণ তখন তেমন মাছ আসেনা তাছাড়া বৃষ্টি ও সর্তক সংকেত থাকলে মাছ শিকারে জেল

??রা নদীতে যায়না। রোদেরও সংকট চলে বর্ষাকালে।

 

 

র ??তদিন শুঁটকি শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকে সকল শ্রমিকেরা। বাশঁখালী, মহেশখালী, কক্সবাজার, কাপ্তাই, রাবাইল্যা থেকে শীতের মৌসুমে প্রচুর মাছ চট্টগ্রামে আসে আমরা সব মাছ শুকিয়ে বিভিন্ন আড়ৎদারের কাছে সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের শুঁটকি বিদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

 

 

কর্ণফুলী ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকায় বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি বানানো হয়ে থাকে। কর্ণফুলী নদীর উত্তর-দক্ষিণ তীরঘেঁষা বাকলিয়া, ইছানগর, ডাঙ্গারচর, কর্ণফুলী ঘাট ও জুলধায় গড়ে উঠেছে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ। বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া, কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকার গভীর সমুদ্র থেকে জেলেদের সংগ্রহ করা মাছ কর্ণফুলীর তীরে আনা হয়। সস্তা শ্রমিক আর নৌপথে সহজে যোগাযোগের সুবিধার কারণে বেশ ভালোই চলে শুঁটকির উৎপাদন। আর বেচাকেনার বাজারও রমরমা।

 

 

শুঁটকির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র বলা চলে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকাকে। এখানকার শুঁটকি বিদেশেও ব্যাপক সমাদৃত। এখানে নানান ধরণের শুঁটকি মাছ সহজপ্রাপ্য। খাতুনগঞ্জ বাজারের শুঁটকি মাছ আমেরিক

া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, দুবাইসহ আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। মানভেদে এই শুঁটকি ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ গ্রেডে ভাগ করা হয়। বিদেশে ‘এ’ গ্রেডের শুঁটকির চাহিদা বেশি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শহরের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মানসম্মত শুঁটকি সংগ্রহ করেন এবং তা খুচরা বাজারে বিক্রি করেন।

 

 

বৃহত্তর চট্ টগ্রামের কক্সবাজার, মহেশ খালী, মাইশদিয়া, কুতুবদিয়া, কর্ণফুলী, চরচাক্তাই, রাঙাবালি অঞ্চলে শুঁটকি উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের চাক্তাই বাজার হচ্ছে শুঁটকির প্রধান আড়ৎ। চাক্তাইয়ে একটি শুঁটকি পট্টিও আছে। মুলত অক্টোবর মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামে শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়। তবে নভেম্বরে শীতের আগমনের শুরু থেকে পুরোদমে শুঁটকি উৎপাদনে নেমে যায় জেলেরা।

 

 

শুঁটকির মধ্যে সবচাইতে দামি হচ্ছে লাক্কা ও রূপচাঁদা। বর্তমানে এক কেজি রূপচাঁদা শুঁটকি ২০০০-৩০০০ টাকা ও  লাক্কা ৪০০০-৫০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অত্যন্ত মজাদার এবং উৎপাদন খরচের কারণে এগুলোর দাম বেশি বলে ব্যবসায়ীরা জানান। ছুরি শুঁটকি ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হয় চট্টগ্রামের বাজারে। শুঁটকির মধ্যে কম দামের শুঁটকি হচ্ছে মিশালী শুঁটকি। তবে লইট্ট্যা শুঁটকি চাহিদা বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি লইট্ট্যা শুঁটকি বিক্রি হয় সাড়ে তিনশ’ থেকে ছয়শ’ টাকার মাঝে।

 

 

Source

>

banglanews24

jagonews24

risingbd

Link

Link

Link