}

বাংলাদেশে একসময় রাজা এবং জমিদারগণ শাসন করে গেছেন। আর রেখে গেছেন কিছু কালজয়ী কীর্তি। তাঁদের বাসস্থানগুলো ছিল একেকটি দর্শনীয় স্থান। কালক্রমে আজ জমিদাররা নেই এদেশে। কিন্তু তাঁদের তৈরি করা এই নিদর্শনগুলো আজও আমাদের ইতিহাস মনে করিয়ে দিচ্ছে। তেমন একটি নিদর্শন হল রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি। আমাদের এই প্রবন্ধে আমরা এই জমিদার বাড়ি নিয়ে কিছু লিখব।

 

রংপুর শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে তাজহাট গ্রামে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি। এটি বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবে আছে। অপূর্ব সুন্দর একটি স্থান হল জমিদার বাড়ি। অনেক পর্যটক এখানে প্রায় ঘুরতে আসেন।

তাজহাট জমিদার বাড়ি

 

 

তাজহাট জমিদার বাড়ি

এই তাজহাট জমিদার বাড়ির ইতিহাস নিয়ে কথা বলব আমরা এখন। এই তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা হলেন মান্নালাল। অনেকে বলেন তিনি ছিলেন রত্ন ব্যবসায়ি অনেকে বলে স্বর্ণকার। যাইহোক রত্নের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে তিনি রংপুর আসেন। এবং নিবাস গড়ে তোলেন মাহিগঞ্জে। ১৮৯৭ সালে এক ভুমিকম্প হয়। ফলে তা

ঁর বাড়ির অনেকটা ভেঙ্গে যায়। তিনি নিজেও আহত হন। পড়ে মারা যান। তাঁর ছেলে অনেকর মতে দত্তক ছেলে গোপাল রায় বাহাদুর জমিদার হন। তিনি একটি জমিদার বাড়ি তৈরি করেন। এই বাড়ির নাম তাজহাট জমিদার বাড়ি। বিংশ শতাব্দীতে তিনি বাড়ির কাজ শুরু করেন। দশ বছর লাগে বাড়িটি নির্মাণ শেষ করতে। দশ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। নির্মাণে খরচ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। তাজহাট নামের কারন অনেকে বলেন অনেক সুন্দর ও অপূর্ব মুকুট বা তাজের জন্য এলাকার নাম হয় তাজহাট।

 

 

এই তাজহাট জমিদার বাড়ি ২১০ ফুটের মত চওড়া। উচ্চতায় প্রায় চার তলা সমান। মুঘল আমলের বাড়ির সাথে বেশ মিল আছে। মাঝখানে একটি গম্বুজ আছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীও হল এর সিঁড়ি। যা অনেকটা আলাদা বাংলাদেশের অন্যান্য জমিদার বাড়ি থেকে। ইতালীয় ঘরানার মারবেল পাথর দিয়ে তৈরি হয়েছে ৩১টি সিঁড়ি। সিঁড়ি থেকে মেঝে এই এক পাথরের তৈরি। বাড়ির পিছনে গুপ্ত সিঁড়ি আছে। অনেকের মতে এই সিঁড়ি কোন সুরঙ্গের সাথে যুক্ত আছে। বর্তমানে এই সিঁড়িটি বন্ধ করে দিয়েছে নিরাপত্তার জন্য।

 

প্রাসাদের চারদিকে রয়েছে বিশাল বড় ফুলের বাগান, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে কামিনী, মেহগনি, কাঁঠাল ও আম বাগান ও দুইটি পুকুর। প্রাসাদে আছে একটি ফোয়ারা। ফোয়ারাটি সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি। এতে সবুজাভ নকশা আছে। এই নকশা কিছুটা মলিন হয়ে গেছে সময়ের সাথে। কিন্তু এর জৌলুস এখনও আছে। এই ফোয়ারা নাকি রানির জন্য তৈরি হয়েছিল। প্রাসাদটিও তৈরি হয়েছে লাল ইট, শ্বেত পাথর, চুনা পাথর দিয়ে। তাই এটি দেখতে খুব সুন্দর লাগে এখনও। প্রাসাদে অনেকগুলো ঘর আছে। আছে গোসলখানা, অতিথির কক্ষ। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় বেশ কিছু ঘর আছে। সেখানে দশম ও একাদশ শ

?াব্দীর টেরাকোটা শিল্পকর্ম আছে। এছাড়া আছে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলের পবিত্র কুরআন শরিফ। আর আছে মহাভারত, রামায়ন ও সংস্কৃত ও আরবি বই সমূহ। পিছনের দিকে ঘরে আছে বিষ্ণু দেবতার মূর্তি। মূর্তিগুলো কালো পাথরের তৈরি।

তাজহাট জমিদার বাড়ি

 

 

১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এই প্রাসাদকে রংপুর হাইকোর্টের একটি শাখা হিসেবে ব্যাবহার করা হত। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে একটি সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা দেন। ২০০৫ সালে জাদুঘর দুই তালায় স্থাপিত হয়। এখানে সাধারন মানুষের টিকিত মাত্র ২০ টাকা। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্ টা ৫ টাকা। ৫ বছরের নিচে বাচ্চাদের টিকিত লাগেনা। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য টিকিত মূল্য একশ এবং অন্যান্য দেশের জন্য ২০০ টাকা। রবিবার এটি বন্ধ থাকে।
এই তাজহাট জমিদার বাড়ি রংপুরের একটি বিশেষ স্থান। এই জায়গাটি যেন সুন্দর থাকে তাও আমাদের দায়িত্ব। এরকম প্রাচীন স্থানগুলো নষ্ট না করে আর সুন্দর যেন রাখা যায় টা খেয়াল রাখা উচিত।

 

 

সূত্র

Link

Link