}

বাংলাদেশের যত প্রাচীন পৌরসভা আছে তার মধ্যে রংপুর শহর একটি। রংপুর শহর হল রংপুর বিভাগের অন্যতম প্রধান শহর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই শহরে রয়েছে দর্শনীয় অনেক স্থান। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসক এখানে শাসন করেছেন। আমাদের আজকের এই প্রবন্ধটি রংপুরের ইতিহাস নিয়ে লেখা। আসুন জেনে নেই রংপুরের আদি ইতিহাস

 

 

রংপুর এর নাম রংপুর কিভাবে হল তা নিয়ে অনেক অনেক মতবাদ প্রচলিত। অনেকেই বলে রঙ্গপুর থেকেই রংপুর শব্দের উৎপত্তি। এর পিছনে যে ইতিহাস আছে তা হল কামরূপ সাম্রাজ্জে ভগদত্ত নামে একজন রাজা ছিলেন। তিনি এক রঙ্গমহল বানান নদীর তীরে। রঙ্গমহল বলতে প্রাচীন কালে রাজা জমিদারগণ অবসর সময়ে নাচ গানের আসর বসানোর জন্য আলাদা বাড়ি বানাতেন। সেখানে তাঁরা অবসরে যেয়ে আনন্দ করতেন। এই রঙ্গমহল থেকে ক্রমে নাম হয় রঙ্গপুর। রঙ্গ মানে আনন্দ, খুশি আর পুর মানে জায়গা। মানে খুশির জায়গা হল রঙ্গপুর। পরে তার নাম হয় রংপুর। আরেকদল মনে করে যখন ইংরেজরা নীল চাষ শুরু করে, তখন রংপুরেও এর প্রভাব দেখা দেয়। এই অঞ্চলের মাটি অনেক উর্বর হয়। তাই প্রচুর পরিমানে নীল চাষ হত এই এলাকায়। এই নীলকে স্থানীয় লোকেরা রঙ্গ বলত। এই রঙ্গ থেকেই রংপুর নাম শুরু। অনেকের মতে এই এলাকায় চট বস্ত্রকে রঙ করা হত, সেখান থেকেও নাম রংপুর হয়েছে। কিছু ইতিহাসবিদ বলেন রঙ্গপুর ফার্সি শব্দ আর এই নাম এসেছ

?? ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি। আবার ম্যালেরিয়া রোগের অনেকবেশি প্রভাব ছিল এই এলাকায়। এজন্য অনেকেই একে যমপুর বলত। সেই যমপুর থেকে আসে জঙ্গপুর। এটি রংপুর জেলার আরেক নাম। আবার জঙ্গ মানে যুদ্ধ। যেহেতু এই এলাকায় সব সময় আন্দোলন হত এবং ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে, ত্রিশ দশকের শেষে কৃষক আন্দোলন সব কিছুতে রংপুরের নাম জড়িত।

 

 

রংপুর অনেক প্রাচীনকাল থেকেই সুপরিচিত। কামরূপ সাম্রাজ্যের সময় থেকে এর নাম পাওয়া যায়। চতুর্থ শতাব্দির সময় এই এলাকা বর্মা রাজবংশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর পালবংশ, সেনবংশ এখানে রাজত্ব করে। এরপর রংপুর মোঘলদের হাতে আসে ১৫৭৫ সালে। মোঘল সেনাপতি মান সিংহ রংপুর আক্রমন করে এবং জয়লাভ করেন। ঘোরাঘাট সরকার ও রংপুরের দখল নেয়। পরে ইংরেজরা ১৭৬৫ সালে এখানে আসে। তখন হয় কৃষক বিদ্রোহ। এরপর ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হলে তার রেশ এখানেও এসেছিল। এখনাকার ইংরেজ শাসকরা বেশ ভয় পেয়েছিল। এখানে ফকির বিদ্রোহও হয়েছিল। ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলন এখানে শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে হয় কৃষকদের নিয়ে তেভাগা আন্দোলন।

কারমাইকেল কলেজ

 

 

রংপুরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ। তিনজন শহীদ হন। প্রথম শহীদ হলেন শঙ্কু সমজদার

। এরপর রংপুরের অনেক মানুষ যুদ্ধ করতে আসে এবং এখানে অনেক গণকবর পাওয়া গেছে।

রংপুরে অনেক তামাক উৎপন্ন হয়। ধান, পাট, আলু, হাড়িভাঙ্গা আম ইত্যাদির জন্য রংপুর বিখ্যাত। এছাড়া রংপুর অঞ্চলে কয়লা ও তামা পাওয়া গেছে। রংপুরের আশ পাশ দিয়ে তিস্তা নদী, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা, ধরলা ইত্যাদি নদী প্রবাহিত হয়েছে। রংপুরের ৮০ ভাগ এলাকা হল তিস্তার প্লাবন ভূমি। আর ২০ ভাগ এলাকা হল বরেন্দ্র ভূমি।

 

 

রংপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর ডেন্টাল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর জিলা স্কুল, রংপুর ক্যাডেট কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি ভাল ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এছাড়া আছে বিভিন্ন পার্ক, জমিদারবাড়ি, পিকনিক স্পট।

হেয়াত মাহমুদ মধ্যযুগের কবি, বেগম রোকেয়া, আনিসুল হক, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, রফিকুল হক, মাহবুব আলম প্রমুখ রংপুরের বিখ্যাত ব্যাক্তি

রংপুর আমাদের অনেক ঐতিহ্যবাহী একটি এলাকা। অনেক ইতিহাস আছে এই এলাকা নিয়ে। B 0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6" target="_blank">রংপুর বাংলাদেশেরও গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল

সূত্রঃ Link1 | Link2 | Link3 | Link4

Please follow and like us: