}

ছেঁউড়িয়া। ছোট্ট একটি গ্রাম হলেও এর খ্যাতি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। একজনের জন্যই এমন নামডাক। তিনি ফকির লালন শাহ। দিন যত যাচ্ছে, ততই ছড়াচ্ছে এই গ্রামের নাম। সারাবছরই এই গ্রামের লালন আখড়াবাড়িতে জড়ো হন তার ভক্ত-অনুসারীরা। তবে দুটি সময়ে এখানে লাখো ভক্ত-অনুসারী ও দর্শনার্থীর ভিড়ে তিল পরিমাণ জায়গা থাকে না। তার একটি হল দোলপূর্ণিমা।

 

 

এবছরের দোলপূর্ণিমার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ২০ মার্চ শুরু হয়ে এই উৎসব শেষ হবে ২৩ মার্চ। লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এর নাম দেয়া হয়েছে লালন স্মরণোৎসব।

 

 

ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ির পাশেই বয়ে চলেছে কালী নদী। কালের কশাঘাতে পড়ে সেটি পদে পদে বাধা পেয়ে আটকে গেছে। তাই কেউ বলেন এটা মরাকালী নদী, আবার কেউ বলেন গতিহারা কালী নদী। এখন সেখানে বাউল, সাধু, ফকির আর সাধারণ দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। সারাদেশ থেকেই বিপুলসংখ্যক লালনভক্ত, অনুসারী আসন পাতেন একাডেমি ভবনের নিচতলাসহ আখড়াবাড়ি চত্বর ও সামনের মাঠে। সাধুসঙ্গ, বাউলগান আর তত্ত্ব আলোচনায় সময় পার করেন বাউল অনুসারী সাধুরা।

 

 

প্রতি আয়োজনেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে লালন আখড়াবাড়ির খালি জায়গা মানুষে মানুষে ভরে যায়। সাদা-সফেদ পোশাকসহ নানা বেশধারী বাউল মানুষের জটলা বাধে আশপাশের এলাকায়। সেখানে ছোট ছোট আসন করে অবিরাম চলে লালনের গান। গানে মজেন দর্শনার্থীরাও। সাধারণ দর

?শনার্থীদের অনুরোধেও গান পরিবেশন করে থাকেন বাউলেরা।

 

 

লালন মেলায় রাতভর চলে বাউল গানের উৎসব। এই উপলক্ষে লালন মাজারকে সাজানো হয় নানা সাজে। প্রধান ফটক আর মূল মাজারে সাদা, লাল, নীল আলোকসজ্জা, বিশাল তোরণ নির্মাণ ও মাজারের বাইরে কালী নদীর ভরাটকৃত জায়গায় স্থাপিত লালন মঞ্চের সামনে বিশাল ছামিয়ানা টাঙানো হয়। আলোচনা মঞ্চের চারপাশ লালন মাজারের প্রধান রাস্তাজুড়ে বসে গ্রামীণমেলা। মেলায় নানা রকম গৃহসামগ্রী, কাঠের তৈরি সাংসারিক নানা জিনিসপত্র, গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা, লালনের গানের সিডি, গেঞ্জি, শন পাঁপড়ি, আখের শরবত, হোটেল, খই-বাতাসাসহ হরেক রকম পসরা বসে।

 

 

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে যেতে চাইলে বাস বা ট্রেনে দু’ভাবেই যাওয়া যায়। বাসে গেলে কল্যানপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে নিউ এসবি সুপার ডিলাস্ক, শ্যামলী, হানিফ বাসে কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট এ নেমে যেতে হবে। সেখান থেকে যে কোনো রিকশা/অটো নিয়ে লালন মাজারে যাওয়া যায়। বাসের ভাড়া নন এসি ৪৫০-৫০০ টাকা, এসি ৬০০-৬৫০ টাকা।

 

 

ট্রেনে যেতে চাইলে সুন্দরবন এক্সপ্রেস অথবা চিত্রা এক্সপ্রেসে যেতে পারবেন। সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকালে ও চিত্রা এক্সপ্রেস সন্ধ্যায় কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। ট্রেনে গেলে আপনাকে পোড়াদহ বা blank">ভেড়ামারা স্টেশনে নামতে হবে। ভেড়ামারা বা পোড়াদহ থেকে বাস বা সিএনজি তে করে কুষ্টিয়া শহরে এসে রিকশা অথবা অটো যেতে পারেন উৎসবে।

 

 

থাকার ব্যবস্থা

মজমপুর গেট, শাপলা চত্বর, এন এস রোড, বড় বাজার এ বিভিন্ন হোটেল আছে। এরমধ্যে হোটেল আজমীরি, প্রীতম হোটেল (মজমপুর গেট), নূর ইন্টারন্যাশনাল, বড়বাজারের জুবলি হোটেল, হোটেল লিবার্টি অন্যতম। এছাড়া থাকার জন্যে শহরেই মানসম্মত অনেক হোটেল পাবেন। এরমধ্যে পদ্মা, হোটেল রিভার ভিউ, গোল্ড স্টার, সানমুন অন্যতম।

 

 

কোথায় খাবেন

খাওয়ার জন্য রয়েছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। তার মধ্যে জাহাঙ্গীর হোটেল, শিল্পী হোটেল, শফি হোটেল, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, মৌবন রেস্টুরেন্টসহ ৩টি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট পাবেন। এন.এস. রোডের মৌবন মাসালা তে আলু পরাটা খেতে পারেন, দাম ৭০ টাকা। একই রোডের শিশির বেকারিতে ভালো নাস্তা পাওয়া যায়। চৌড়হাস মোড়ে রান্নাঘর হোটেলও ভাল। মজমপুরের জাহাঙ্গীর হোটেল। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য আছে বড় বাজারের গান্ধী হোটেল, মৌবন। শেষ কথা, লালন কুলফি খেতে ভুলবেন না!

 

 

Source

daily-bangladesh

Link

Please follow and like us:
subscrbe" style="float:left; text-align:justify; vertical-align:middle; width:64px">