}

বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল সুন্দরবন৷ এই বনের জলে-স্থলে বাস করে নানা রকম বন্যপ্রাণী৷ সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য কিছু বন্যপ্রাণীর তথ্য থাকছে ছবিঘরে৷

 

নানা রকম বন্যপ্রাণী

সুন্দরবনে আছে প্রায় ৩২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ৩২০ প্রজাতির আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি আর প্রায় ৪০০ প্রজাতির মাছ৷ এছাড়া অগণিত কীটপতঙ্গও আছে এ বনে৷

 

 

বিশেষ বৈশিষ্ট্য

সুন্দরবনের প্রাণিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের প্রত্যেকেই সাঁতার কিংবা উড়তে সক্ষম৷ দুটির কোনো একটি বৈশিষ্ট্য না থাকলে সে প্রাণী সুন্দরবনে বেঁচে থাকতে পারেনা৷

 

বাংলা বাঘ

সুন্দরবেনের প্রধান পশু বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ৷ বাংলাদেশের জাতীয় পশুও এটি৷ সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী এ প্রাণীটিই এর জীববৈচিত্র্য, খাদ্য শৃঙ্খল ও পরিবেশ চক্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক৷ অত্যন্ত বিপন্ন একটি প্রাণী হিসেবে বাঘ বেঁচে আছে আমাদের সুন্দরবনে৷ ২০১৫ সালে বন বিভাগ ক্যামেরা পদ্ধতিতে গণনা করে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘের সন্ধান পায়৷

 

চিত্রা হরিণ

সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি যে প্রাণীটি দেখা যায় তা হলো চিত্রা হরিণ৷ সুন্দরবনের সব জায়গাতেই দ

?ে দলে চিত্রা হরিণ দেখা যায়৷ স্ত্রী চিত্রা হরিণের কোনো শিং নেই তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ চিত্রা হরিণের তিন শাখা বিশিষ্ট শিং থাকে৷ চিত্রা হরিণ বাঘের সবচেয়ে প্রিয় খাবার৷

 

মায়া হরিণ

সুন্দরবনে খুবই কম পরিমাণে আছে মায়া হরিণ৷ দেখতে অনেকটা ছাগলের মতো বলে অনেকে একে বন ছাগলও বলে থাকে৷ গাঢ় বাদামি রংয়ের এ হরিণ বনের ভেতরে একা চলতে ভালোবাসে

 

বানর

সুন্দরবনে প্রাণীদের তালিকায় হরিণের পরই বানরের স্থান৷ সুন্দরবনে এরা হরিণের সঙ্গে সহাবস্থান করে থাকে৷ এজন্য হরিণকে বানরের সুহৃদও বলা হয়৷ বাঘের আগমনের খবরও হরিণকে দেয় বানর৷ সুন্দরবনের গাছে ডালেই তাদের বসবাস৷

 

বন্য শুকর

সুন্দরবনের শুকর আকার বেশ বড়৷ কালো ও লাল মিশ্রিত গায়ের রং৷ এসব বন্য শুকর দেখতে অনেকটা ভল্লুকের মতো৷ অনেকটা শান্ত স্বভাবের প্রাণি হলেও দাঁতাল পুরুষ বন্য শুকর খুবই হিংস্র স্বভাবের হয়৷ হরিণের পরেই শুকর বাঘের প্রিয় খাবার৷

 

উদ্বিড়াল

উদ্বিড়াল বা ভোঁদড় দেখতে অনেকটা বেজির মতো৷ এদের গায়ের রং কালচে সাদা৷ সুন্দরবনের খালের পাড়ে এদের বিচরণ দেখা যায়৷ পানির মধ্যে ডুব দিয়ে এরা সহজেই মাছ শিকার করতে পারে৷

 

লোনা পানির কুমির

সুন্দরবনে সরীসৃপ প্রজ

াতির সবচেয়ে বৃহৎ সদস্য কুমির৷ সাধারণত এরা ৫-৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে৷ সারা বছর গভীর পানিতে থাকলেও বেশি শীতের রৌদ্রময় ‍দিনে খালের চরে এদের রোদ পোহাতে দেখা যায়৷

 

গুই সাপ

গুই সাপ দেখতে অনেকটা কুমিরের মতো৷ একটি পূর্ণবয়স্ক গুইসাপের ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত হয়৷ এরা গড়ে লম্বায় এক মিটার পর্যন্ত হয়৷ এ দের জিহ্বা সাপের জিহ্বার মতো লম্বা৷ চোখ উজ্জ্বল ও মাঝারি৷ এরা খুব দ্রুত গাছে উঠতে, পানিতে সাঁতরাতে ও ডাঙায় চলতে পারে৷

 

সাপ

নানা রকম সাপ রয়েছে সুন্দরবনে৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অজগর, সঙ্খচুড়, গোখরা, বেড়া, ফনিমনসা, গেছো সাপ ইত্যাদি৷

 

ডলফিন

সুন্দরবনের নদীতে দেখা যায় দুই প্রজাতির ডলফিন৷ এর একটি শুশুক এবং অন্যটি ইরাবতি৷ সুন্দরবনের নদী ও খালের মোহনায় এদের দেখা যায়৷ তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের নদীগুলো দিয়ে মালবাহী জাহাজ চলাচল করায় বিপন্ন এ প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে৷

 

নানান পাখি

সুন্দরবনকে পাখির স্বর্গরাজ্য বলা যায়৷ খাদ্যের প্রাচুর্য, অফুরন্ত গাছ আর জনমানবহীন পরিবেশের কারণে পাখিদের কাছে সুন্দরবন খুবই নিরাপদ আশ্রয়স্থল৷ এ বনের অধিবাসী ৪০০ প্রজাতির পাখির মধ্যে ৩২০ প্রজাতির স্থানীয় বা আবাসিক, আর ৫০ প্রজ

??তিরও বেশি অনাবাসিক বা পরিযায়ী৷

 

প্রজাপতি

সুন্দরবনে দেখা যায় নানান রংবেরংয়ের প্রজাপতি৷

 

 

Source

dw.com