বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এর মধ্যে একটি হল দেশের সব বড় বড় বিভাগীয় শহরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। দেশের সকল জেলার ছাত্রছাত্রীরা যেন সহজে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে এজন্য এই পদক্ষেপ। আমাদের আজকের প্রবন্ধটি বংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে। সেটি হল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের খুলনা শহরে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। আসুন আমরা জেনে নেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুঁটিনাটি।

 

 

খুলনা বিভাগে আগে কোন বড় বিশ্ববিদ্যালয় ছিলনা। ১৯৭৪ সালে খুলনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এরপর ১৯৭৯ সালের ১০ নভেম্বর সরকারের ক্যাবিনেটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি যে গেজেট প্রকাশিত হয় সেখানে তাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রকাশ পায়। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর উদ্বোধন করেন। প্রথমে মাত্র ৪টি ডিসিপ্লিনে মাত্র ৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। বর্তমানে ২৮টি ডিসিপ্লিনের অধীনে প্রায় ৫০০০ শিক্ষার্থী প্রতিবছর

href="http://blog.bdlst.com/search?keyword=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F" target="_blank">খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

 

 

প্রায় ১০৫.৭৫ একর জমি নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হয়েছে। এটি খুলনা শহর থেকে তিন কিমি পশ্চিমে ময়ূর নদীর পাশে গল্লামারিতে এটি অবস্থিত। একে খুবি নামে ডাকা হয়।

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। তা হল এই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছাত্র রাজনীতি ?িষিদ্ধ। ছাত্রছাত্রীরা এখানে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেনা। এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এখানে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মচারী এর আয়তাভুক্ত নয়। তারা ইচ্ছা করলে রাজনীতি করতে পারবে।

 

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। একাডেমিক ভবন ১, একাডেমিক ভবন ২ ও একাডেমিক ভবন ৩। এখানে ছাত্রদের জন্য তিনটি হল রয়েছে। খান জাহান আলী হল, খান বাহাদুর আহসানুল্লাহ হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। মেয়েদের জন্য রয়েছে দুটি হল। অপরাজিতা হল এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল।

 

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরী স্থাপিত হয় ১৯৮৭ সালে। এটি প্রথমে একাডেমিক ভবন ১ এর ডি ব্লকে ছিল। বর্তমানে এর নিজস্ব ভবন আছে। ১২৫ জন শিক্ষার

?থী, ২৫ জন শিক্ষক বা গবেষকরা এখানে একসাথে পড়তে পারে। এই লাইব্রেরীতে প্রায় ২৫০০০ এর মত পড়ার উপকরণ আছে। যার মধ্যে ২৩০০০ হল বই এবং ২০০ খণ্ড হল বিভিন্ন জার্নাল। এই লাইব্রেরীর কম্পিউটার নেটওয়ার্ক রয়েছে যার মাধ্যমে দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা যায়। এখানে ইন্টারনেট সুবিধা আছে এবং ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে। এই লাইব্রেরীতে অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৬টি অনুষদ রয়েছে। এই ৬টি অনুষদের অধীনে ২৮টি ডিসিপ্লিন এবং ১টি ইন্সটিটিউট রয়েছে। বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, আইন, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রসাশন ইত্যাদি অনুষদে বিভিন্ন বিষয় ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়।

 

 

ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। এখানে বি এন সি সি সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রীরা তাদের সময় পার করে। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ?া অর্জন করা যায়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে আর অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এটা আমাদের চাওয়া।

 

 

সুত্র

Link

Link