শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিশেলে প্রায় দু’শ বছরের পুরনো শহর নাটোর। চলনবিল, বনলতা সেন আর কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতিতে সমৃদ্ধ নাটোর প্রাকৃতিক শোভা ও নানান সৌন্দর্যমন্ডিত নিদর্শনে ভরপুর। ভ্রমণ প্রেমীদের কাছে তাই নাটোর একটি পছন্দের জায়গা। বনলতার সেনের নাটোরে তাই দুদণ্ড শান্তির খোঁজে ভ্রমণপ্রেমীরা ঘুরে বেড়ান। এখানকার নানান আকর্ষণীয় স্থানগুলো তাই সবসময়ই পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। আর নাটোরের অন্যতমে একটি দর্শনীয় স্থান হল চলনবিল জাদুঘর।

 

প্রায় চল্লিশ বছর আগে ১৯৭৮ সালে গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর গ্রামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রফেসর আব্দুল হামিদ। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি এই চলন বিল জাদুঘর টি গড়ে তোলেন। এটাই জেলার একমাত্র জাদুঘর। জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চলনবিল তথা উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করে আনা হয় এ-জাদুঘরে। যা এ-অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পরবর্তীতে জাদুঘরটির উন্নয়নের লক্ষ্যে নরওয়ে সরকারের প্রকল্প নরওয়ে এজেন্ট (নোরাট) ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেন, যা দিয়ে পাকা দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

 

চলন বিল জাদুঘর প্রবেশ পথেই রয়েছে চলনবিলের কৃতী সন্তান প্রখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকারের পোড়া মাটির আবক্ষ মূর্তি। এছাড়াও সংগৃহীত দুর্লভ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে বাদশা নাসিরুদ্দিন ও মোঘল সম্রাট আলমগিরের স্বহস্তে লিখিত কোরআন শরীফ, তুলট

??াগজ ও গাছের ছালে লেখা প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুঁথির পাণ্ডুলিপি। বিভিন্ন সময়ের স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, ধাতব মুদ্রা, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য, রাজা, সম্রাট, সুলতান ও নবাবদের ব্যবহৃত তলোয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, রানী ভবানীর স্মৃতি চিহ্ন, মনসা মঙ্গলের বেদি ও ঘট, হাতির দাঁত, বাংলা ভাষায় লিখিত অতি পুরাতন পাণ্ডুলিপি, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান, শ্রী বরদা প্রসাদ শাস্ত্রী’র কাল পাথরের প্রতিকৃতি, ব্রোঞ্জের তৈরি মূর্তি, ৮০টি দেশের মুদ্রা সহ আরো প্রাচীন উপকরণ রয়েছে।


১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ব্যবহৃত বুলেট, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লার হাতে লেখা ডায়েরি, বাদশাহ নাসির উদ্দিন ও মোগল সম্রাট আলমগিরের হাতে লেখা কোরআন শরীফ, রানি ভবানীর হাতে লেখা দলিল দেখতে পাবেন চলন বিল জাদুঘর। এছাড়া তুলট কাগজ ও গাছের ছালে লেখা প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুঁথির পাণ্ডুলিপি, তিন মাথা যুক্ত বাঁশ, মানুষের মাথার খুলি, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য ও মূর্তি; রাজা, সম্রাট, সুলতান ও নবাবদের ব্যবহৃত তরবারিসহ যুদ্ধাস্ত্র, মনসামঙ্গলের বেদি ও ঘট, বগুড়ার কবি মরহুম রুস্তম আলী কর্ণপুরীর দলিল-দস্তাবেজ, ডাকটিকিট, চিত্রকর্ম, চলনবিল অঞ্চলের মানুষের নিত্যব্যবহার্য নানান দ্রব্য, তৈজসপত্র, কৃষি ও মাছ ধরার সরঞ্জাম আছে এখানে। উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ নানান কিছু দেখতে পাবেন

এখানে।

 

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার সায়দাবাদ, কলাবাগান, গাবতলি, মিরপুর ও কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহন,হানিফ এন্টারপ্রাইজ, গ্রিনলাইন পরিবহন, মর্ডান এন্টারপ্রাইজের বাস নাটোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
নাটোর শহর থেকে গুরুদাসপুর বাসে গিয়ে তারপর ভ্যানে চড়ে এই জাদুঘরে পৌঁছাতে পারবেন।

 

যেখানে থাকবেন:

নাটোরে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

 

১। হোটেল ভিআইপি
ঠিকানা: বড় হরিষপুর, নাটোর
এই হোটেলটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ১ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মাদ্রাসা মোড়ের পূর্বে অবস্থিত। ফোন: ০৭৭১-৬৬০৯৭, +৮৮০১৭১৮৬৭৩৭৩৫।

 

২। হোটেল মিল্লাত
ঠিকানা: মাদ্রাসা মোড়, নাটোর সদর, নাটোর।

 

৩। হোটেল প্রিন্স
ঠিকানা: রেলওয়ে স্টেশন বাজার, নাটোর সদর, নাটোর
ফোন: ০৭৭১-৬১৩৫৬।

 

 

Source:
Travelbd
Link_1