কান্তজীউ মন্দির দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মন্দির। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত কারণ তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিল।কান্তজীউ মন্দির  ১৮ শতকে নির্মিত একটি চমৎকার ধর্মীয় স্থাপনা। মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের কান্ত বা কৃষ্ণের মন্দির হিসেবে পরিচিত যা লৌকিক রাধা-কৃষ্ণের ধর্মীয় প্রথা হিসেবে বাংলায় প্রচলিত।



মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক বিনয় কুমার মহন্ত জানান, আগামী ২৫ নভেম্বর শ্রী কৃষ্ণের রাস মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সেই সময় মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তের আগমন ঘটে। সে দিকে লক্ষ্য রেখে প্রজেক্ট কমিটি কান্তজীউ মন্দির  সংস্কারের কাজ করছে। এ কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।কালিয়াকান্ত জিউ অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণের বিগ্রহ অধিষ্ঠানের জন্য এই মন্দির নির্মিত। এই জন্য এর নাম কান্তজীউ মন্দির । কান্তজীর মন্দির যে স্থানে স্থাপিত তার নাম কান্তনগর। কান্তনগর সম্পর্কে পৌরাণিক বহু গল্প ও উপাখ্যান প্রচলিত রয়েছে। কথিত রয়েছে মহাভারতে বর্ণিত বিরাট রাজার গো-শালা ছিল এখানে।



প্রকৃতপক্ষে মন্দিরটি যেখানে তৈরি হয়েছে সেটি একটি প্রাচীর স্থান ও প্রাচীন দেয়ালঘেরা দূর্গ নগরীরই একটি আংশ। প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উঁচু এবং ১৮ মিটার (৬০ ফুট) বাহুবিশিষ্ট প্রস্তরনির্মিত একটি বর্গাকার বেদীর ওপর এই মন্দির র্নিমিত।
জানা যায়, বেদীর পাথরগুলো আনা হয়েছিল প্রাচী

?? বানগড় (কোটিবর্ষ দেবকোর্ট) নগরের ভেঙে যাওয়া প্রাচীন মন্দিরগুলো হতে। বেদীর ওপর মন্দিরটি ইটের তৈরি। বর্গাকারে নির্মিত মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিটার (৫২ ফুট)। মন্দিরের চারদিকে রয়েছে বারান্দা। প্রত্যেক বারান্দার সামনে রয়েছে দুটি করে স্তম্ভ। এগুলো বিরাট আকারের এবং ইটের তৈরি। স্তম্ভ ও পাশের দেয়ালের সাহায্যে প্রত্যেকটি দিকে তিনটি করে বিরাট খোলা দরজা তৈরি করা হয়েছে।


মন্দিরের উচ্চতা ৭০ ফুট। বারান্দার পরেই রয়েছে মন্দিরের কামরাগুলো। একটি প্রধান কামরার চারদিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট কামরা। তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চুড়া বা রত্ন ছিল। এ জন্য এটিকে নবরত্ন মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মন্দিরের চূড়াগুলো ভেঙে গেছে।মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি হতে জানা যায়, দিনাজপুরের জমিদার মহারাজা প্রাণনাথ রায় (মৃত্যু ১৯২২ খৃষ্টাব্দ) তার শেষ জীবনে মন্দির তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তার আদেশ অনুসারে তার দত্তক পুত্র মহারাজা রামনাথ রায় এই মন্দির তৈরির কাজ শেষ করেন ১৯৫২ খিষ্টাব্দে। ইট দ্বারা তৈরি এই মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির চিত্রফলকের সাহায্যে রামায়ণ মহাভারতের প্রায় সব কয়টি প্রধান কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।



সে সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন কাহিনি এবং সম্রাট আকবরের কিছু চিত্র কর্ম রয়েছে। অতি সুন্দর ও কারুকার্যময় এই কান্তজীউ মন্দির । পোড়ামাটির চিত্র ফলকের এমন সুন্দর ও ব্যাপক কাজ বাংলার আর কোনো মন্দিরে নেই। ঐতিহাসিক বুকানন হ্যামিল্টনের মতে এটি বাংলাদেশের সুন্দরতম মন্দির।মন্দিরটি দেখার জন্য বহু দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমন ঘটে এই দিনাজপুরের মাটিতে। এখানে আধুনিক ম ?

নের পর্যটন মোটেল, মিউজিয়াম, ঐতিহাসিক  নায়াবাদ জামে মসজিদ রয়েছে এবং যোগাযোগের সুব্যবস্থা আছে। রাজধানী ঢাকার টাংগাইল বাস স্ট্যান্ড বা গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে দিনাজপুরগামী বাসে যাওয়া যাবে দিনাজপুর। এছাড়াও কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে দ্রুতগামী ট্রেনে চেপেও পৌছে যেতে পারবেন দিনাজপুর শহরে।

 

 

 

Source

Risingbd.Com