অবিভক্ত ব্রিটিশ বাংলায় প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল এডওয়ার্ড কলেজ। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ হিসেবেও এই প্রতিষ্ঠান পরিচিত। ১৮২৮ সালে ভৌগলিক সীমানা নির্ধারণের পর পাবনায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবার কথা চিন্তা করা হয়। সে উদ্দেশ্যে শ্রী গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী ১৮৯৪ সালের জুলাই মাসে পাবনায় “পাবনা ইন্সটিটিউট” নামে একটি বিদ্যালয় চালু করেন। বর্তমানে এটি গোপাল চন্দ্র ইন্সটিটিউট নামে পরিচিত এবং এরই একটা কক্ষে ১৮৯৮ সালে কলেজ কার্যক্রম শুরু করেন গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী। সে বছরেই কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়। সে সময়ে এর নামকরণ করা হয় এফ.এ. স্ট্যান্ডার্ড কলেজ এবং কেবল ২৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজ কার্যক্রম চলতে থাকে। গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী ১৯০৬ সাল পর্যন্ত এই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তখন কলেজের নাম পাল্টে ‘পাবনা কলেজ’ রাখা হয়।

 

তৎকালীন ভারতীয় সম্রাট ৭ম এডওয়ার্ড –এর নামানুসারে ১৯১১ সালে কলেজের নাম এডওয়ার্ড কলেজ হিসেবে চূড়ান্ত হয়। ১৯১৪ সালে রাধিকা নাথ বোস অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন এবং ৩৪ বছর তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যান। ১৯১২ সালের আগস্ট মাসে তাড়াশের নামজাদা জমিদার রায় বাহাদুর বনমালী কলেজ উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ৫০০০০ টাকা দানের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল কলেজকে সেই অনুদান প্রদান করেন। প্রাথমিক কার্যক্রমে আবেদন ও অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে মহারাজা স্যার মনিন্দ্রচন্দ্র নন্দী (কাশিমবাজার), শরিফুন্নেসা চৌধুরানী, যোগেশ চন্দ্র ভাদুরী (পরজনার জমিদার), ক্ষীরোদ গোবিন্দ চৌধুরি এবং প্রমদা গোবিন্দ চৌধুরি (তাতিবন্দরের জমিদার ও তার স্ত্রী), কে.এন. চৌধুরী (হরিপু

?ের বার অ্যাট ল) কলেজটিকে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। কুষ্টিয়ার সদরপুরের জমিদার ও নীলবিদ্রোহ-নেত্রী প্যারীসুন্দরী দেবীর উত্তরাধিকারী গোপীসুন্দরী দাসী ও দেবেন্দ্র নারায়ন সিংহ পাবনা শহরস্থ রাজানগরের প্রায় ১৬ একর জমি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দান করেন। অধ্যাপক হেমচন্দ্র রায়, রাধিকা নাথ বোস ও গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী প্রমুখ গুণীজনেরা কলেজের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন।

 

প্রারম্ভিক পর্যায়ে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, যুক্তিবিদ্যা, সংস্কৃত, ফারসি এবং আরবী বিষয়ে কলেজের পাঠ কার্যক্রম চলত। ১৯১৫ থেকে ১৯১৬ সালের ভেতর কিছু সহযোগিতাসহ প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন হয় এবং উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ চালু হয়। ১৯২৪ এ বিজ্ঞানভবন নির্মাণ করা হয় এবং ১৯২৫ নাগাদ বি.এস.সি কোর্স চালু হয়। অধ্যাপক হেমচন্দ্র রায়ের স্ত্রী স্নেহলতা রায়ের অর্থায়নে ১৯৩৯ সালে কলাভবন নির্মিত হয় এবং ১৯৪০ সালে বি.এ. কোর্স চালু হয়। র মাধ্যমেই কলেজটি প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে। ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালে বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ে এবং ১৯৭২ সালে ব্যবস্থাপনা, পদার্থবিদ্যা ও গণিতে স্নাতক পর্যায়ে পাঠদান শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে শুরু হয় বাংলা এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কার্যক্রম। ১৯৬১ সালে কলেজ আঙ্গিনা সরকার অধিগ্রহণ করে নেয় এবং এতে করে কলেজের এলাকার আয়তন দাঁড়ায় ৪৯ একর।

 

১লা মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে প্রাদেশিকীকরণের মাধ্যমে এডওয়ার্ড কলেজ সরকারি করা হয় যে সময়ে কলেজে ২৬১৩ জন শিক্ষার্থী ছিল। ‘৮টি বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৭ সালে ২৯৮.৮৪ লক্ষ টাকায় ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কলেজের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়। ১৯৮৭ সালে ইংরেজি, ই

তিহাস, হিসাববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, রসায়ন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক কোর্স চালু হলে তৎকালীন মোট স্নাতক কোর্সের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টি এবং ১৯৯৫ সালে এ সকল বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়ে যায়। ১৯৯৯ হতে ২০০০ সালের ভেতর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাণীবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সের কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং ২০১১ সালে ফিন্যান্স এবং মারকেটিং এ স্নাতক কোর্স শুরু হয়; এর মাঝে ১৯৯৭ সালের পর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে কলেজ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে তা পুনরায় চালু করা হয়।

 

বর্তমানে ১৭টি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যয়নরত। পাঠ্যসূচির সঙ্গে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা জারি রাখতে সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্র; তথ্য প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাইবার সেন্টার এবং ইংরেজিসহ ৫টি ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্যে ফরেন ল্যাংগুয়েজ ক্লাব -এর ব্যবস্থা করা রয়েছে। এছাড়াও সেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠন যেমন বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট ইত্যাদিতে শিক্ষার্থীরা সকল ভারসাম্য বজায় রেখেই অংশগ্রহণ করে থাকে। ইন্টারনেটের সুব্যবস্থা হিসেবে সম্পূর্ণ কলেজ এলাকা ওয়াইফাই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। কলেজের পরিচিতি ও সকলের প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরতে রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট ( www.e wardcollege.edu.bd )।ব্রিটিশ ভারতীয় বাংলায় একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হল পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই শতবর্ষী কলেজের অবদান শিক্ষার আলো বিস্তারে ও জ্ঞানানুশীলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

 

 

 

Source

2%E0%A7%87%E0%A6%9C,_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE">Link 1

link 2