}

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলেই এই সুন্দর সমুদ্র সৈকতটির দেখা মিলে। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার অন্তর্গত উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত এটি। একদিকে যেমন ঝাউ বনের সবুজের মহাসমারোহ, অন্যদিকে নীলাভ সমুদ্রের বিস্তৃর্ণ জলরাশি আপনাকে যেন স্বাগত জানাবে নতুন আরেকটি ভুবনে। আর সমুদ্র তীরের মাতাল হাওয়া আপনার মনকে ভরে তুলবে এক অজানা দেখার সীমাহীন ভালো লাগায়।

পথে যেতে যেতে দেখা মিলবে অন্যরকম এক দৃশ্যের। আঁকা-বাঁকা পথ ধরে ছোট ছোট পাহাড়, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, কর্ণফুলী নদীর উপর প্রমোদতরীর আদলে নির্মিত  ঝুলন্ত সেঁতু  এবং কাফকোর অনিন্দ্য দৃশ্যও কারো চোখ এড়াবেনা। প্রাণ জুড়াবে বীচে ঢোকার পথে সরু রাস্তার দু’পাশে সারি সারি গাছ, সবুজ প্রান্তর আর প্রশস্ত মাছের ঘের। বীচে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মতো অসংখ্য ঝাউ গাছ আর ঝাউ বনও রয়েছে। যা দেখে সত্যিই মনে হতে পারে- এ যেন আরেকটি ‘কক্সবাজার’।

স্কুল, কলেজ কিংবা অফিসিয়াল ট্যুরে গেলে ফুটবল নিয়ে চোখ বন্ধ করে নেমে যেতে পারেন বীচের কোলে। সাগরের পাড়ে ফুটবল খেলার সে কী আনন্দ! সেটা নিশ্চয়ই কারো অজানা নয়। খেলা শেষে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন সমুদ্রের বুকে। দুষ্টুমিতে মেতে উঠতে পারেন যে যার মত করে। দলবদ্ধ বিনোদন  ভাগাভাগি করে অবগাহন করুন স্বর্গীয় এক মহা-আনন্দে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত বিনোদনের দেখা। অস্তমান লাল সূর্যটি রুপোর থালায় অবগাহনের সময় হাতছানি দিয়ে ডেকে বলবে তার সাথে সেলফি উঠতে। সেই সাথে সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যেতে উঠে বসতে পারেন গতিময় স্পিডবোটে, সওয়ারি হতে পারেন ঘোড়ার পিঠে চড়ে কিংবা সিবাইকের স্টিয়ারিং ধরে ঘুরে আসতে পারেন লম্বা বিচের আঁচল ধরে আর ঝাউবন ঘেঁষে হাটতে হাটতে আনমনে হারিয়ে যেতে পারেন বঙ্গোপসাগর আর ক

?্ণফুলীর নদীর মোহনাতে।  

বসার জন্য রয়েছে কক্সবাজারের আদলে বড় ছাতাসহ হেলানো চেয়ার। চাইলেই যেখানে বসতে পারেন নিজেকে জিরিয়ে নিতে। এখানে বিভিন্ন জুস কিংবা পানীয়ের সাথে বিয়ার ও হার্ড ড্রিংকসেরও ব্যবস্থা আছে। ঝিমিয়ে পড়া শরীরটাকে একটু চাংগা করতে হেলানো চেয়ারে গাঁ এলিয়ে দিয়ে বসতে পারেন একটি পানীয় হাতে। এছাড়াও মজার খেলা রিং থ্রো কিংবা নির্ভুল নিশানার পরিক্ষা দিতে ট্রিগারে হাত রেখে ফুটিয়ে আসতে পারেন বোর্ডে বাঁধা বেলুন।

পূর্ণিমা রাতের সাক্ষী হতে, রুপালী চাঁদের সারথি হতে, চাইলে রাতটাও আপনি কাটিয়ে আসতে পারেন পারকির বুকে। একদিকে ঝাউ বনের নীরব নিস্তব্ধটা অন্য দিকে পূর্ণিমার চাঁদ আর ফুলেফেঁপে উঠা উত্তাল সাগরের গর্জনে প্রকম্পিত বিচটি আপনাকে অদ্ভুত ঘোরলাগা কোন স্বপ্নের অনুভূতি যোগাবে।

পারকিতে রাত কাটাতে চাইলে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠছে মোটেল ও রিসোর্ট। চাইলে স্থানীয় রিসোর্টে উঠতে পারেন। তবে পছন্দ না হলে চট্টগ্রাম শহরে রাত যাপন করতে পারেন। শহরে বেশ কিছু নান্দনিক হোটেল এবং মোটেল রয়েছে। তন্মধ্যে হোটেল লর্ডস ইন, হোটেল এশিয়ান, ল্যান্ডমার্ক এবং রেডিসন ব্লু’র নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায়।  

আর সেই সাথে স্থানীয় ছোট হোটেল ছাড়াও আছে জনপ্রিয় কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। চাইলে যাওয়ার আগেই রেস্টুরেন্ট খাবার বুক দিতে পারেন। এ ছাড়া পিকনিক বা শিক্ষা সফরে রান্না করে খাওয়ার সূব্যবস্থাও আছে। 

বাংলাদেশের প্রতিটা প্রান্ত থেকেই সড়ক কিংবা রেলপথে পতেঙ্গা সংলগ্ন এই পার্কটিতে খুব সহজে আসা যায়। সড়কপথে ঢাকা হতে ইউনিক, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, সোহাগ, এস, আলম প্রভৃতি বাসের এসি/ননএসিতে আসতে পারেন। আর ট্রেনে আসতে চাইলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস , সোনারবাংলা এক্সপ্রেস, তুর্না নিশিথা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভা

তী/গোধূলি এক্সপ্রেসগুলোতে এসে ঘুরে যেতে পারেন।

 

লেখকঃ এম, আর, খান সুমন