}

পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটির সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। শহরের কালো ধোঁয়া থেকে দূরে চলে গিয়ে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে তাই ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে যায় রাঙামাটির কোলে। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য মন মাতায় সকল পর্যটকদের। সুবিশাল লেকটি পাহাড়ের কোল ছুঁয়ে ছুঁয়ে অপরিমেয় সৌন্দর্য নিয়ে বয়ে চলেছে অবিরাম। তারই একটি দ্বীপে রেস্টুরেন্ট পেদা পেদা টিং টিং। রসনা বিলাসী ভ্রমণ প্রেমীদের জন্য চমৎকার এক রেস্টুরেন্ট এটি। কাপ্তাই লেক ভ্রমণে গেলে পেদা টিং টিং এর খাবারের স্বাদ না নিলে আপনার ভ্রমণ থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। এখানকার আদিবাসীদের মেজাজে রান্না করা খাবারগুলোর স্বাদ অতুলনীয়। পেদা টিং টিং নামের মতই মজাদার এখানকার ভিন্ন স্বাদের খাবারগুলো যা আপনার রসনা বিলাসে পূর্ণ তৃপ্তি দিবে।

 

 

রাঙ্গামাটি শহর থেকে মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই লেকের মাঝে ভাসমান একটি পাহাড়ে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টটি। রাঙ্গামাটি আর শুভলং এর মাঝামাঝি টুরিস্টদের আরাম আয়েশের জন্যেই করা হয়েছে এটি। রেস্টুরেন্টটি অতি সাধারণ ভাবে সাজানো, তারপরও যথেষ্ট রুচিসম্মত। এখানকার আদিবাসীদের মেজাজেই রান্না করা হয় সকল খাবার। বাঁশের ভেতরে মুরগী, কলাপাতায় ডিম ভাজা, পোনা শুঁটকীর ঝুরঝুরে ভাজি। এছাড়াও এখানে পাবেন স্থানীয় খাবা

? “বিগল বিচি”, “কচি বাঁশের তরকারী”, “কেবাং”, “ব্যাম্বু চিকেন”। অসাধারণ স্বাদের এই খাবারগুলো পেট পুরে খেয়ে দারুণ তৃপ্তি পাবেন। এছাড়াও এই রেস্টুরেন্টে আপনার জন্য রয়েছে চা, কফি আর চিকেন ফ্রাই। স্থানীয় আদিবাসীদের বিভিন্ন আইটেমের মজাদার তরকারি এখানে পাবেন।

 

 

বাম্বু চিকেন বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা মুরগির মাংস যাকে বাঁশের প াত্রে পরিবেশন করা হয়। বিগল বিচি বিগল বিচি দেখতে ছোট ছোট দানার মতো- হালকা করে তেলে ভাজা হয়। এমনিতে এর কোনো স্বাদ নেই। এটি মূলত খেতে হয় শুটকি মাছ ও কাঁচামরিচের ভর্তার সাথে। তখনই এর আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কচি বাঁশের তরকারী এটি একটি অসাধারণ আইটেম। রাঙ্গামাটি এসে এই খাবারটি হতে অবশ্যই বঞ্চিত হবেন না। কচি বাঁশের তরকারি। এর স্বাদ অসাধারণ! পুঁই বা অন্যান্য শাকের সাথে এটি রান্না করা যায়, অথবা ভাজি। যে ভাবেই খান না কেন এটি হবে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। কচি বাঁশ খেতে খুবই নরম- মুখে দেওয়া মাত্র গলে যায়। আসলে এগুলোর স্বাদ বলে বুঝানো যাবে না! বুঝতে হলে খেতে হবে! কেবাং এটি আসলে খাবার রান্নার একটি পদ্ধতি। শক্তসমর্থ বাঁশের খোলের ভেতর শূকর ভরে সেখানে তেল-মশলা দিয়ে বাঁশটিকে পোড়ানো বা ঝলসানো হয়। তবে আপনি শুকর খেতে না চাইলে কাঁচকি বা অন্যান্য মাছ, মাংস ইত্যাদির কেবাং করে খেতে পারেন। এর স্বাদ এবং অভিজ্ঞতা আপনার স্মৃতির পাতায় থাকবে সারাজীবন। কাঁচকি ফ্রাই এটি অবশ্য আদিবাসী কোন খাবার নয়। তবে এর স্বাদ অতুলনীয়। সাধারণ পদ্ধতিতেই বড় বড় কাঁচকি মাছ তেলের উ

পর ভাজা হয়। গরম গরম খেতে ভীষণ মজার খাবার এটি। রাঙ্গামাটির অনেক হোটেলেই এই খাবারটি পাবেন। অপূর্ব স্বাদের এই খাবারগুলোর টেস্ট আপনার মুখে লেগে থাকবে বহুকাল।

 

 

পেদা টিং টিং এ কটেজ, নৌবিহার ব্যবস্থা, সেগুন বাগান এবং অসংখ্য বানরের আবাস রয়েছে। ইচ্ছে করলে মনোজ্ঞ কোন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে পারবেন এখানে। চাইলে রাত্রিযাপনও করতে পারবেন কটেজে। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি কক্ষ সদৃশ ঘর। চাঁদনী রাতে বিস্তৃত জলরাশি ঘেরা পাহাড়ের উপর রাত্রি যাপন আপনার জন্য সত্যিই দুর্লভ এক অভিজ্ঞতা হবে।

 

 

যেভাবে যাবেন

ঢাকা  ফকিরাপুল মোড় ও সায়দাবাদে রাঙামাটিগামী অসংখ্য এসি ও নন-এসি বাস রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে হানিফ, শ্যামলী, এস আলম, ইউনিক, সৌদিয়া ইত্যাদি। এসকল বাসে ভাড়া পড়বে ৬০০-৯০০ টাকার মধ্যে। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

 

 

রাঙামাটি শহর থেকে পেদা টিং টিং যেতে চাইলে আপনাকে নৌ পথে যেতে হবে। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার রিজার্ভ করাই সেক্ষেত্রে বেশি ভালো। রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার এলাকা থেকে অথবা পর্যটন এলাকা থেকে ট্রলার রিজার্ভ করা যায়। এগুলোর ভাড়া আকার অনুযায়ী বিভিন্ন হয়ে থাকে।

 

 

যেখানে থাকবেন

রাঙাম

?টিতে অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউজ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল গোল্ডেন হিল, হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, হোটেল লেক ভিউ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি ইত্যাদি।

 

 

Source

travelbd

Link