}

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের প্রায় ৮০% মানুষ কৃষি কাজের সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আর কৃষি নিয়ে পড়াশুনা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে কৃষি শিক্ষার জন্য একটি উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের আজকের প্রবন্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে লেখা।

 

মানব ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশা কি? অনেকে অনেক কথা বলবেন। তবে মানুষের খাদ্যের যোগান দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। যুগ যুগ ধরে কৃষি কাজ নিয়ে মানুষ গবেষণা করে আসছে। কিভাবে নতুন প্রজাতি উদ্ভাবন করা যায়, কিভাবে কম সময়ে বেশি ফসল পাওয়া যায় এসব নিয়ে সবসময় মানুষ কাজ করছে। এজন্য কৃষি শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর কৃষি শিক্ষায় পড়াশুনা করার অনেক বেশি সুফল রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে আগামী কয়েক বছরে কৃষিবিদদের চাহিদা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যারা কৃষি শিক্ষা নিয়ে কাজ করে, তারা অন্য চাকুরেদের থেকে বেশি সন্তুষ্ট থাকে তাদের কাজ নিয়ে। যেহেতু প্রকৃতির সাথে তাদের কর্ম এবং অবস্থান, তাই তাদের মন মানসিকতাও অনেক ভাল থাকে। যাইহোক কৃষি শিক্ষার ভাল দিকগুলো আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। আমরা এবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জানব।

 

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় gjgwlmianbfwkckw.jpg" style="height:191px; width:300px" />

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে অবস্থিত। একে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বলে অনেকে। ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ৪ কিমি দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম প্রান্তে এটি অবস্থিত। প্রায় ১২৫০ একর বা ৪৮৫ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিশাল এই ক্যাম্পাস। এখানে কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সব বিষয়ের উপর উচ্চ শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে কৃষি নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করা হয়। ১৯৬১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন মাত্র দুটি অনুষদ ছিল। ভেটেরিনারি ও কৃষি অনুষদ। এরপর কয়েক মাস পর পশুপালন অনুষদ চালু হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে ৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ৬৪—৬৫ তে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ এবং ৬৭-৬৮ তে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ চালু হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪,২৯৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। এখানে বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন আছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার আছে। আছে ২০০০ জন ধারন ক্ষমতা বিশিষ্ট মিলনায়তন। আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা এখানে আছে। জিমনেশিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ডঃ ওয়াজেদ মিয়া ডরমেটরি, মসজিদ ইত্যাদি আছে। এখানে মোট ১৩টি হল আছে। যার মধ্যে ৪টি মেয়েদের। ছাত্র হল আছে ৯টি। এছাড়া অনেক খোলা জমি আছে যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। ছাত্র ছাত্রীরা সেখানে ব্যাবহারিক ক্লাস করে। এছাড়া গবেষণার কাজও চলে।

 

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় xwdsvemvpyebucat.jpg" style="height:191px; width:300px" />

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনেক গবেষণায় সফল হয়েছে। বাউ-৬৩, বাউকুল, বাউধান-২ নামে ধান জাত, বাউ-এম ৩৯৫, বাউ-এম ৩৯৬ নামে চারটি সরিষা জাত, কমলা সুন্দরী ও তৃপ্তি নামক আলু জাত, ডেভিস, ব্রাগ, সোহাগ, জি-২ ও বিএস-৪ নামের সয়াবিন জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া ভেটেরিনারি গবেষণাতেও সাফল্য লাভ করেছে। বিভিন্ন ভ্যাকসিন তৈরি, মড়ক নিবারন পদ্ধতি, প্রাণীদের রোগ নির্ণয়, উন্নত মাছ চাষ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে চলেছে এখানকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ।
এখানে ছয়টি অনুষদ আছে। সেগুলো হলঃ
১। ভেটেরিনারি অনুষদ।
২। কৃষি অনুষদ
৩। পশুপালন অনুষদ
৪। কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ
৫। কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ
৬। মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ যালয় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হয়। প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেয়। এরপর ভর্তি পরীক্ষার ফল অনুসারে ভর্তি হতে পারে। প্রতি বছর প্রায় ১২৩০ জন ভর্তি হতে পারে। এখানে বিএসসি থেকে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রী পর্যন্ত পড়াশুনা করা যায়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে পড়াশুনার মান খুব উন্নত।

 

 

তথ্যসূত্র

Link