বায়েজিদ বোস্তামির (রহঃ) মাজার সম্পর্কে কিছু বলার আগে তাঁর সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) একজন বিখ্যাত ইরানী সাধক ছিলেন। তিনি আবু ইয়াজিদ বিস্তামি, তায়ফুর আবু ইয়াজিদ আল-বোস্তামি অথবা সুলতান-উল-আরেফিন (৮০৪-৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দ) নামেও পরিচিত। তার জন্ম ইরানের বোস্তাম শহরে। 

 

মা ভক্তির অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ)। কোন এক রাতে অসুস্থ মায়ের খুব পিপাসা পেল। ঘুমের ঘোরে আধো অচেতন মা পানি চেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। এদিকে শিশু বায়েজিদ দেখলেন ঘরে এক ফোঁটা পানি নেই। তাই মায়ের পিপাসা মেটাতে কোন কালবিলম্ব না করে ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে চলে গেলেন দূর নদীতে পানি আনতে। কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন, মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু শিশু বায়েজিদ মা’কে ডাকলেন না। মায়ের ঘুম ভেঙে যাবে বলে মায়ের শিওরের কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেন এই ভেবে যে, হঠাৎ যদি মা জেগে যায়, আর জেগে গিয়ে পানি চেয়ে যদি তা না পায়, তাহলে মায়ের অনেক কষ্ট হবে। তাই তিনি না ঘুমিয়ে অসুস্থ মায়ের শিওরের কাছে তাঁর ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষায় গ্লাস হাতে সারারাত জেগে থাকলেন। ভোরে মায়ের ঘুম ভাংলো। ঘুম ভেঙে দেখলেন শিশু বায়েজিদ তাঁর ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় সারারাত তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। মায়ের প্রতি ছেলের এমন কর্তব্য এবং ভালবাসা দেখে মা খুবই অবাক হলেন এবং ছেলের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করলেন। আল্লাহ মায়ের দোয়া কবুল করলেন। পরে পৃথিবী খ্যাত ওলি বায়েজিদ বোস্তামি নামে তিনি পরিচিত হলেন। এটি ইসলামের নৈতিক মূল্যবোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার চট্টগ্রাম এর নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। 6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8"> ইরানের বিখ্যাত পার্সিয়ান সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর নামে গড়ে উঠা এই মাজার চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা দেশী- বিদেশী পর্যটকদের জন্যও একটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থান। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সেনানিবাসের নিকটবর্তী একটি দরগাহ "বায়েজিদ বোস্তামির মাজার" হিসেবে প্রসিদ্ধ। কিন্তু বায়েজিদ বোস্তামি নামের কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কখনো বাংলাদেশে এসেছে, এমন ইতিহাস নেই। চট্টগ্রামে তার নামে পরিচিত মাজারটি হচ্ছে একটি প্রতিকৃতি বা অনুকৃতি মাত্র। তবে অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, বায়েজিদ বোস্তামি বাংলাদেশে আগমন করেছিলেন। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর দিকে আরব বনিকরা চট্টগ্রাম উপকূলে আসা যাওয়া করত। সুতরাং নবম শতাব্দীতে বায়েজিদ বোস্তামির চট্টগ্রামে আগমন অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু এটি একটি ধারণা মাত্র। এর স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

 

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারের পাদদেশে একটি সুবিশাল দীঘি অবস্থিত। এর বাসিন্দা হিসাবে বোস্তামীর কাছিম ও গজার মাছ সুবিখ্যাত। আঞ্চলিকভাবে এদের মাজারী ও গজারী বলে আখ্যায়িত করা হয়। বোস্তামীর কাছিম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অত্যন্ত বিরল এবং চরমভাবে বিপন্নপ্রায় প্রজাতি। বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার প্রাঙ্গন ব্যতীত বিশ্বের আর কোথাও এদের দেখা মিলে না। মাজারের দেখাশোনার দ্বায়িত্বে থাকা মাজার তত্ত্বাবধায়ক কমিটির লোকদের দ্বারাই এদের প্রতিপালন করা হয়। বর্তমানে মাজার প্রাঙ্গন সংলগ্ন এই দীঘিতে দেড়শো থেকে সাড়ে তিনশো কচ্ছপের আবাস রয়েছে

??লে ধারণা করা হয়। প্রজনন মৌসুমে মাজারের মূল পাহাড়ের পেছনে এদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে এদের ডিম পাড়ার ব্যবস্থা করা হয়।

 

মাজারের ভক্তকূল ও আঞ্চলিক জনশ্রুতি অনুযায়ী মাজার প্রতিষ্ঠাকালে এই অঞ্চলে প্রচুর দুষ্ট জ্বীন এবং পাপীষ্ঠ আত্মার পদচারণা ছিলো। বায়েজিদ বোস্তামী তার এই অঞ্চলে ভ্রমনকালে এইসব দুষ্ট আত্মাকে শাস্তিস্বরূপ কাছিমে পরিণত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

 

বাংলাদেশের প্রতিটা প্রান্ত থেকেই সড়ক কিংবা রেলপথে পতেঙ্গায় খুব সহজে আসা যায়। সড়কপথে ঢাকা হতে ইউনিক, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, সোহাগ, এস, আলম প্রভৃতি বাসের এসি/ননএসিতে আসতে পারেন। আর ট্রেনে আসতে চাইলে সুবর্ণ, সোনারবাংলা, তুর্না নিশিথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলি এক্সপ্রেসগুলোতে এসে ঘুরে যেতে পারেন।

 

থাকার জন্য হোটেলে উঠতে চাইলে সে সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই চট্টগ্রামের মূল শহরে উঠতে হবে। তন্মধ্যে হোটেল লর্ডস ইন, হোটেল এশিয়ান, ল্যান্ডমার্ক এবং রেডিসন ব্লু’র নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায়।