রাঙামাটি ভ্রমণকাহিনী!!
তিন রাত, দুই দিনের রাঙামাটি দর্শন।
গ্রুপ মেম্বারঃ চার।

 

 

প্রথম দিন

নৌকা নিয়ে ভ্রমণপর্ব!!
১. বৌদ্ধ মন্দির
২. চাকমা গ্রাম
৩. সুবলং ঝর্ণা
৪. "নাম জানা নেই" ঝর্ণা!! (সুবলং এর নিকটবর্তী)
৫. বরকল পাহাড়
৬. চাংপাং রেস্টুরেন্ট
৭. পেদা টিংটিং রেস্টুরেন্ট
৮. ঝুলন্ত ব্রীজ।।

 

 

দ্বিতীয়_দিন

সিএনজি দিয়ে রাঙামাটি-কাপ্তাই রোড ভ্রমণপর্ব!!
১. শহীদ মিনার
২. আসামবস্তি (আসামবস্তি ব্রীজ)
৩. তংচঙা গ্রাম
৪. চাকমা গ্রাম
৫. বরাদাম
৬. বনভান্তে স্মৃতি মন্দির
৭. বরগাং রেস্টুরেন্ট এন্ড রিসোর্ট
৮. বেরাইন্যা রিসোর্ট
৯. জীবতলী সেনানিবাস
১০. কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব।।

 

 

 কিভাবে যাবেন

জানতে চাইলে নিচের ডিটেইল অংশ পড়ে দেখতে পারেন।

 

 

যেভাবে যাবেন

> ঢাকা (ফকিরাপুল/সায়দাবাদ)- রাঙামাটি (রিজার্ভবাজার) ননএসি বাসে ৬২০ টাকা ভাড়া। আমরা ইউনিক, সৌদিয়া কিছু না পেয়ে এস আলমে যাই। তাদের বাসে স্পেইস যথেষ্ট ছিলো। সার্ভিস ও ভালোই ছিলো।

> এই বাস আপনাকে নামাবে রাঙামাটি রিজার্ভবাজারের একটু আগে (বাসস্ট্যান্ড/ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড)। বাসস্ট্যান্ড থে

??ে ১০ মিনিট হ ?টলেই রিজার্ভবাজারের হোটেল চোখে পড়বে। আমরা ছিলাম "গ্রীন প্যালেস" হোটেলে। শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত একদিন কাউন্ট করেছিলেন উনারা। দুই ডাবল বেডের রুমে এক দিনের জন্য আমাদের খরচ হয় ১৮০০ টাকা। তার পাশের মতি মহলের সিইং সাইট আরো ভালো। আমরা ভোরের অন্ধকারে দুইটার তফাত ধরতে পারি নি। যদিও তা নিয়ে আফসোস নেই। কারণ, এত ঘুরার পর রুমে ফিরে না ঘুমালে পরের সারা দিন ঘুরা অসম্ভব।

> সকালে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে লঞ্চ ঘাট গিয়ে বোট (একতলা/ দুইতলা) ভাড়া করে নিন। আমাদের দুতলা বোটে সারাদিনের (৮.৩০-৫.৩০) জন্য দিতে হয়েছে ১৮০০ টাকা। বোটের সাইজ অনুযায়ী আপনি দরকষাকষি করে খরচ আরো কমাতে পারবেন। বোটে উঠার সময় কিছু শুকনা খাবার, পানি নিয়ে নিবেন। ময়লা ফেলার জন্য দয়া করে একটা বড় পলিব্যাগ সাথে রাখুন।

> মাঝি একটার পর একটা স্পটে নিয়ে যাবে আপনাকে। যেহেতু সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা ভাড়া করে নিচ্ছেন তাই তার তাড়াহুড়া করার সুযোগ নেই। সে সারা দিনে আপনাকে ৭-৮ টি স্পট নৌকা করে ঘুরে দেখাবে।

> দুপুরে খাওয়ার আনুমানিক দেড় ঘন্টা আগে পেদা টিংটিং এ খাবার অর্ডার দিয়ে অন্য দিকে ঘুরতে যেতে পারেন। আমরা আগে অর্ডার দেই নি। কারণ, সাথের অনেকের জুমার নামাজ পড়ার ছিল। তাই খাবার তৈরি হতে হতে তারা নামাজ পড়ে নেয়।

> দুপুরের খাবার খেয়ে পেদাটিংটিং এ রেস্ট নিতে পারেন তাদের নিজস্ব রেস্টিং প্লেইসে (ইট ইজ অওসাম)। আপনারা চাইলে চাংপাং, মেজাং, মারমেইড সহ অন্য যে কোন রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন। আমরা যাওয়ার আগেই ঠিক করে রাখি পেদা টিংটিং এ কাচকি ফ্রাই, ব্যাম্বু চিকেন খাবো!! তাদের খাবারের দাম একটু বেশিই মনে হয়েছে। তবে স্বাদ, এবং চারপাশের নয়নাভিরাম দৃশ্য দামের বেপারে আপনাকে খুব একটা ভাবতে দিবে না!

 

 

দ্বিতীয় দিন
> ১ম দিন নৌক

?? ভ্রমণ শেষে ??েরার পথে অথবা রাতে খাওয়ার সময় বের হলে পরের দিনের জন্য সিএনজি ঠিক করে নিন। আমরা রাঙামাটি হোটেল থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত (** শুধু যাওয়া) ঘুরার জন্য সিএনজি রিজার্ভ করতে খরচ হয় ১২০০ টাকা (সকাল ৮.০০- দুপুর ২ টা পর্যন্ত টাইম ঠিক করা ছিল)।

> সিএনজি ড্রাইভার হোটেলের পাশেই অবস্থিত অনিন্দ্যসুন্দর শহীদ মিনার দেখানোর মধ্য দিয়ে একে একে সব স্পট দেখাবে। আমার দেখা সব থেকে সুন্দর শহীদ মিনার এর একটি হয়ে গেলো "রাঙাম ??টি শহীদ মিনার।"

> আসামবস্তি ব্রীজে উঠার পর থেকেই আপনার চোখ, মন-প্রাণ জুড়ানো শুরু হবে। যা দেখবেন চোখে তার কিয়দংশ ক্যামেরাতে ধারণ করতে পারবেন হয়তো।

> সর্বশেষ স্পট জীবতলী সেনানিবাস দেখা শেষে আমরা কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্র- এর সামনে দিয়ে যাই। পরিচিত কেউ থাকলেই কেবল গেইট পাস ম্যানেজ করে ভেতরে ঢুকতে পারবেন।

> সেখান থেকে নতুন ভাবে সিএনজি রিজার্ভ করে জুম রেস্টুরেন্ট যাই ১০০ টাকা দিয়ে। জুম রেস্টুরেন্টের সাথেই কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব। সেখানে "প্রতিঘন্টা ২৫০ টাকা"/ "আধ ঘন্টা ১৫০ টাকা" হিসেবে কায়াকিং করতে পারবেন। সাঁতার না জানলে সমস্যা নেই। শুধু লাইফজ্যাকেট পরতে ভুলবেন না এবং ইন্সট্রাকশন ফলো করবেন।

> কায়াকিং শেষে ১০০ টাকা দিয়ে সিএনজি রিজার্ভ করে লিচুবাগান আসবেন।

> লিচুবাগান থেকে চিটাগং আসার জন্য সিএনজি/বাস সুবিধামত ঠিক করে নিবেন।

 

 

খরচ

যাওয়া থেকে আসা পর্যন্ত আমাদের ৪ জনের গ্রুপের জনপ্রতি খরচ ছিল ৪,০০০ টাকা। গ্রুপ একটু বড় নিয়ে গেলে খুব সহজেই এই খরচ অনেক কমিয়ে আনা যাবে।
তার উপর আমরা হোটেল এবং খাবারের ব্যপারে মোটামুটি ভালো লেভেলের চুজি ছিলাম। আমরা জায়গায় জায়গায় পাহাড়ি ফল (কলা, ডাব, আনারস, পেঁপে) ছা

ড়াও পেদা টিং টিং, মেজ্জান হাইলে আইয়ুন, হাইওয়ে সুইটস কোন কিছুই খেতে বাদ দেই নি!তাই এর চেয়ে কম খরচে আপনারা ঘুরতে পারেন অনন্যসাধারণ রাঙামাটি ।

 

 

অবশই যা করবেন না

> আদিবাসী গ্রামগুলো ঘুরার সময় অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে উনাদের খারাপ লাগে।

> দয়া করে পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। সবাই এত পোস্টে একই কথা বলার পরেও ময়লা, খাবারের প্যাকেট দেখলে নিজেদের এত অসভ্য জাতি বলে মানতে হয়। প্লিজ সবাই সাথে করে একটা ব্যাগ রাখুন যাতে খাবারের খোসা, ময়লা যেখানে সেখানে না ফেলা লাগে। সুন্দর রাস্তাগুল ?তে চিপসের প্যাকেট, নীল পানিতে পানির বোতল, সবুজ পাহাড়ে বিরিয়ানির প্যাকেট দেখলে মন মেজাজ আর ঠিক থাকে না।

 

 

 

Source
Link