}

সন্দ্বীপ যাওয়ার পথে কুমিরা ঘাট হয়ে যেতে হয়। মূলত সন্দ্বীপ যাত্রার রোমান্স সেখান থেকেই শুরু হয়।  কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ ঘাট প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। অনেকটা পায়ে হাঁটা রাস্তা। সামনে বঙ্গোপসাগর আর পেছনে অটল পাহাড়কে রেখে যখন সীতাকুন্ডের সন্দ্বীপ ঘাটে পৌঁছবেন চোখের সামনে ধরা দিবে অনেকগুলো বিশালদেহী মরচেপড়া জাহাজ। এত বিশাল বিশাল জাহাজ  সামনাসামনি দেখার এটা একটি সুবর্ণ সুযোগ বৈকি। যেমন লম্বা তেমনই উঁচু। বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না-কাটতেই নিজের সবটুকু সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হবে সন্দ্বীপ ঘাটের এক কিলোমিটার ব্রিজ, যেটা সোজা সাগরের বুকে চলে গেছে। সন্দ্বীপ যেতে হলে  এই ব্রিজটি ধরেই শেষ মাথায় গিয়ে আপনাকে স্পিডবোটে উঠতে হবে।


সন্দ্বীপে পা ফেলতেই আপনার মনে হবে সবুজের মহাসমারোহ যেন আপনাকে স্বাগত জানিয়ে বলছে, এসো হে ভ্রমণ পিপাসু পথিক! এসো। আমাদের এই সবুজের ভুবনে তোমাকে সুস্বাগতম।


ঠিক তাই। কেওড়া কাঠের তৈরি লম্বা ব্রিজ পাড় হয়ে পাকা ব্রিজটিতে উঠে ভ্যানে চড়ে আপনি যখন ব্রিজের দুইপাশের সারি সারি সবুজ কেওড়াবন কেটে সামনের এগোতে থাকবেন তখন মনটা আপনার নেচে উঠবে কোন এক অজানা রহস্যে। মনে হবে যেন এমন একটি দ্বীপ দেখার জন্য আপনি অপেক্ষায় ছিলেন অনেক দিন।


প্রথমেই যেতে পারেন শিবের হাট। সেখানে ভরপেট খেয়ে নিতে পারেন। সামুদ্রিক মাছ আর মাছ মাংস সবই পাওয়া যায় এখানে। সন্দ্বীপের বিখ্যাত বিনা শাহর মিষ্টিও খেয়ে নিতে পারেন এখান থেকে।


সবুজ সমুদ্রসৈকতের দ্বীপ সন্দ্বীপ। যত দূর চোখ যায় সমান ঘাসের মাঝে মাঝে নারিকেলগাছের কী দারুণ সুন্দর একটা সৈকত! প্রতিটি গাছই যেন একেকটা ওয়ালপেপার, হুট করে দেখলে মনে হবে দূরদেশের কোনো এক আয়েশি সৈকত অপেক্ষায় আছে অতিথিদের।


জোৎস্না রাতে তাবু টানিয়ে সাগর পাঁড়ের ঝিরিঝিরি বাতাস উপভোগ, কাঠসুরকী জ্বালিয়ে মাঝরাতে বার-বি-কিউয়ের আয়োজন, খেজুরের রস, নারকেল দিয়ে শিরনির স্বাদ, জুম ল্যান্সে তোলা চাঁদ তারার ছবি আর কাঁকড়াঝাঁকের সাথে মিতালীর গল্প কভু ভোলার নয়।


রাতের আঁধার কেটে ভোর হতেই দেখা মিলবে রাখাল বালককে ভেড়ার পাল নিয়ে সবুজের কাছাকাছি হারিয়ে যেতে। ঘাসে জমা শিশির মুক্তোকে হার মানিয়ে যখন সবটুকু আবেশ কেড়ে নিচ্ছে, ঠিক তখনই কলসি কাঁখে গায়ের কোনো এক বধূর দূরের এক টিউবওয়েল চাপার শব্দে মোহ কেটে যাবে। হয়ত বলতে হবে বিদায়। তবে একরাশ ভালো লাগার ঘোরকে সাঙ্গ করে এ বিদায়ের বেদনাতেও রয়েছে আবারো ফিরে আসার ব্যাকুলতা।


বালুর সৈকত অনেক হয়ত দেখেছেন, কিন্তু  ঘাসের সৈকত একটিই। তাই নিজের অজান্তেই নিজের কাছে প্রমিজ করে বলবেন—এই দ্বীপে, এই নারিকেলতলে আবার আসব ভরা কোনো পূর্ণিমার আয়োজনে...।


ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে সীতাকুন্ডের সন্দ্বীপ ঘাটে নেমে যাবেন। সেখান থেকে স্পিডবোটে ৩০০ টাকা নেবে সন্দ্বীপ। সন্দ্বীপে যাতায়াত খরচ বেশি। কারণ, এখানে মোটরসাইকেল আর বেবিট্যাক্সি ছাড়া দূরে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। দ্বীপের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত। পর্যটক এখনো অনেক কম যায়, তবে সৈকতে ক্যাম্পিং করে নিরিবিলি রাত কাটাতে চাইলে এর থেকে ভালো জায়গা খুব কমই আছে। অথবা, উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকা যেতে পারে, এ জন্য যোগাযোগ করতে হবে উপজেলা পরিষদে।


 


লেখকঃ এম, আর, খান সুমন