}

ঘড়ির টিক টিক আওয়াজ নেই। সেকেন্ডের কাঁটার অবিরত ছোটাছুটি নেই। নেই ঘড়িতে দম দেওয়া, ব্যাটারি বদলানো কিংবা ইলেকট্রিক পাওয়ার দেওয়ার ঝামেলা। একবার নির্মাণের পর যুগ যুগ ধরে সময় বলে দেয় যে ঘড়ি তার নাম সূর্য ঘড়ি।


রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে রয়েছে এমনই একটি দৃষ্টিনন্দন সূর্য ঘড়ি। পর্যটকরা সূর্য ঘড়ির মাধ্যমে সময় নির্ণয় করতে গিয়ে পুলকিত হন। তাকিয়ে থাকেন অবাক বিস্ময়ে। পৃথিবীতে কত বিস্ময়ইনা আমাদের চমকিত করে। যেভাবে চমকিত করছে এই সূর্য ঘড়িটি। 


বিস্ময়কর এ ঘড়িটির পেছনের অংশে রয়েছে দিক নির্দেশক চিহ্ন। রয়েছে দিক নির্দেশক তীরের ফলার মতো আনুভূমিক লোহার পাত, নিচে একটি গোলাকার চাকতিতে এর ছায়া পড়ছে। ১৮০ ডিগ্রি কোণে বাঁকানো এ চাকতির ভেতরের সমতল পৃষ্ঠে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত অংক দাগাঙ্কিত আছে। অংকগুলো ঘণ্টা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


লোহার পাতটির ওপর সূর্যের আলো পড়লে তার ছায়া সমতল চাকতির যে অঙ্কের উপর পড়ে তখন ততটা বাজে। তার পাশে আরও একটি ছোট আকৃতির মিনিট নির্দেশক রয়েছে। সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর ছায়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তন হয় সময়েরও।


সীমিত সংখ্যক পর্যটক স্থাপনা দেখে বুঝতে পারলেও অনেক পর্যটকই বুঝতে পারেন না তার সামনে আছে সূর্য ঘড়ি। যার কোথাও নামফলক নেই। কবে ঘড়িটি স্থাপিত হয়েছে তাও লেখা নেই কোনো স্থানে।


এভাবে অনেক পর্যটককে এই ঘড়ি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারেন না। অর্থাৎ, বেশীরভাগ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায় এই বিস্ময়কর সূর্য ঘড়ি। যা দেখে না আসার মানে হল আপনার সাজেক ভ্যালীর ষোলকলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসা।  


বেশীরভাগ পর্যটকের অভিযোগ- জিনিসটি কমন না হওয়ায় অনেকে তারা চিনতে পারেন না। তাই কোনো স্থানে সূর্য ঘড়িটির পরিচয় ও স্থাপনের সাল উল্লেখ থাকলে সাধারণ পর্যটকদের বিষয়টি জানতে সুবিধা হয়। পূর্ণতা পেত সাজেক ভ্যালী ভ্রমণের।


সূর্য ঘড়ি দৃষ্টিনন্দন হলেও শুধু দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকা সাপেক্ষে এটি কাজ করে। রাত্রে এটি কোনো কাজে লাগে না। বিভিন্ন ঋতুতে সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে সূর্য ঘড়িতে সব সময় সঠিক সময় দেয় না। তবে একটি আনুপাতিক সময় পাওয়া যায়।


বাংলাদেশে খুব একটা সূর্য ঘড়ি নেই। সবচেয়ে পুরাতন সূর্য ঘড়ি ঢাকার বলধা গার্ডেনে অবস্থিত। এটি ১৯০৯ সালে স্থাপন করা হয়।


ঢাকা থেকে রাঙামাটিগামী অসংখ্য এসি ও নন-এসি বাস রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে হানিফ, শ্যামলী, এস আলম, ইউনিক, সৌদিয়া ইত্যাদি। এসকল বাসে ভাড়া পড়বে ৬০০-৯০০ টাকার মধ্যে। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। 


রাঙামটিতে অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউজ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল গোল্ডেন হিল, হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, হোটেল লেক ভিউ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি ইত্যাদি। চাইলে যে কোন একটিতে বুক করে থেকে আসতে পারেন নিজের মত করে।


 



লেখকঃ এম, আর, খান সুমন