}

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার জমিদার বাড়ীটি সংস্কারের অভাবে এখন বিলুপ্তির পথে।

আমরা গত ৬ই জানুয়ারী ঘন কুয়াশা দিনে গিয়েছিলাম ঠাকুরগাঁও জেলার পশ্চিমের উপজেলার কিছু নির্দশন দেখতে তার মধ্যে হরিপুরের রাজ বাড়ি একটি। ভ্রমণের সঙ্গে ছিল সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধি (কুষ্টিয়া) এক বন্ধু আর একটা মোটর বাইক ও সাথে নিলাম রাণীশংকৈলের তরুণ সাংবাদিক এস.কে সুজন সহ তার এক বন্ধ আর একটি বাইকসহ।

 

 

অনেকটা ইতিহাস পরে আর রাজবাড়ীর তত্ত্বাবধানে থাকা মানুষদের কাছে জানতে পারলাম হিমালয়ের পাদদেশে উত্তর জনপদে সীমান্ত ঘেষা ঠাকুরগাঁও রাণীশনকৈল থানা থেকে বিছিন্ন হয়ে জন্ম নেয়া হরিপুর থানা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট মন্ডিত:- মাত্র ৭৬ বর্গ মাইল আয়তন বিশিষ্ট উপজেলাটি পূর্বে ও পশ্চিমে দুই উপনদী কুলিক ও নাগরের মেখলা বেষ্টিত এবং ভূতাত্তিক উৎপত্তি ও গুণাগুণের নিরীখে তিস্তার পল্লী অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হলেও বিহারের শুষ্ক মরু অঞ্চলের সঙ্গে এর ভূ-প্রাকৃতিক সাদৃশ্য চমকপ্রদ।

 

হরিপুরের মাটি অধিকাংশ স্থানেই বেলে এবং দো-আঁশ। আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। বনাঞ্চল নেই বলে বৃষ্টিপাত স্বল্প আর সেখানেই অবস্থিত ১০৩ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ীটি। ঘুরে ঘুরে দেখতে পারলাম ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্মৃতিচিহ্নগুলো।

 

টাঙ্গন, শুক ও সেনায়া বিধৌত এই জনপদের একটি ঠাকুর পরিবারের উদ্যোগে বৃটি

?? শাসনমলে বর্তমান পৌরসভা এলাকার কাছাকাছি কোনো স্থানে একটি থানা স্থাপিত হয় এই পরিবারের নাম অনুসারে থানাটির নাম হয় ঠাকুরগাঁও থানা। “ঠাকুর” অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের সংখ্যাধিক্যের কারণে স্থানটির নাম ঠাকুরগাঁও হয়েছে। আর এই ঠাকুরগাঁও এর হরিপুর রাজবাড়ি দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।

 

 

ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার কেন ?দ্রস্থলে রাজবাড়িটি। এই রাজবাড়ি ঘনশ্যাম কুন্ডুর বংশধরদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম শাসনামলে আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুন্ডু নামক একজন ব্যবসায়ী এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে হরিপুরে আসেন। সেই সময়ে মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম মহিলা অত্র অঞ্চলের জমিদার ছিলেন, তাঁর বাড়ি মেদিনীসাগর গ্রামে।

 

এই জমিদারির খাজনা দিতে হতো তাজপুর পরগনার ফৌজদারের নিকট। খাজনা অনাদায়ের কারণে মেহেরুন্নেসার জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুন্ডু কিনে নেন। ঘনশ্যামের পরবর্তী বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায় উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বৃটিশ আমলে হরিপুর রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সময়ে রাজবাড়ির কাজ শেষ হয়নি।

 

 

রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারয়ণ রায় উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এসময় তিনি বৃটিশ সরকার কর্তৃক রাজর্ষি উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯০০ সালের দিকে ঘনশ্যামের বংশধররা বিভক্ত হয়ে গেল

?? হরিপুর রাজবাড়িও দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সমাপ্তকৃত রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি মূর্তি আছে।

 

 

তাছাড়া ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিবমন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট্যশালা রয়েছে। রাজবাড়িতে ছিল একটি বড় পাঠাগার যার অস্তিত্ব এখন নেই। রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল সেটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনুমান করা হয় যে শিব মন্দিরটি ঘন-শ্যাম কুন্ডু বা তার নিকটবর্তী বংশধরদের দ্বারা নির্মিত।

 

 

ইদ্রীশ আলী সরদার (৯০) নামে এক প্রবিন গুনিজন বলেন, আমরা জমিদারের শাসনকাল দেখেছি। তাদের এই ছেড়ে যাওয়া মহামূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সরকারের উচিত ছিল। আগামী দিনের প্রজন্ম এটি দেখে কিছু যানতে পারতো। ৫নং হরিপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মংলা বলেন, এই জমিদার বাড়ী হরিপুরের জন্য একটি ঐতিহ্য

 

এতে প্রতিয়মান হয় যে, জমিদাররা এখান থেকে তাদের শাসনকার্য পরিচালনা করতো। তাদের এই রাজকীয় বাড়ী ঘর বর্তমানে শতকোটি টাকা ব্যয় করলেও এরকম সৌখিন দর্শনীয় ও নিপূন কারুকার্য করা ভবন তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সকলের ও সরকারের এসকল জমিদার বাড়ী সংরক্ষণ করা উচিত। সরকার চাইলে এই জমিদার বাড়ীগুলিকে সংরক্ষণ করে মিউজিয়াম বা দর্শনার্থীদের জন্য পর্যটন কেন্দ্র করে তুলতে পারে।

 

 

জমিদার বাড়ীটি সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণের জন্য হরিপুর উপজেলার স্বচেতন মহল

??ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ব বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। হরিপুরের এ ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পরিত্যক্ত এ রাজবাড়ির বিভিন্ন কক্ষ স্থানীয় মহিলা সমিতি, ভূমি অফিসার্স সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। রাজা ও রাজ পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এটি সংস্কার করা উচিত।

 

 

 

 

Source
সময়ের কণ্ঠস্বর (Somoyer Konthosor)
কামরুল হাসান
Link

 

Image
Link