বিলাইছড়ি
বিলাইছড়ি
Oct. 11, 2019

Billaichari : Where falls meet the lake and hill!
দর্শনিয় স্হান:
ধূপপানি ঝর্ণা
✔ন-কাটা ঝর্ণা
মুপ্পোছড়া ঝর্ণা
✔গাছকাটা ঝর্ণা

উপরের ঝর্ণাগুলো ট্রেইল দিতে গিয়ে আপনাকে কাপ্তাই জেটিঘাট/জীপতলী ঘাট থেকে যে বোট জার্নি কাপ্তাই লেক পাড়ি দিতে হবে সেটি কখনো
১. থানচি হয়ে রেমাক্রি যাওয়ার
২. আবার টাংগুয়ার হাওড়ের পরিবেশ দিবে।

বিলাইছড়ি ট্রেইলে আমরা ২৫ জনের একটি গ্রুপ ছিলাম (ঢাকা থেকে ১৮ + আর চট্রগ্রাম থেকে ৭ জন = ২৫ জন)

 

 

১ম দিন ও ১ম রাত

১৭ই আগস্ট শনিবার রাত ১১ টায় ঢাকা থেকে কাপ্তাই এর সরাসরি বাসে উঠে পড়ি আর ঈদের কারনে ফাকা রাস্তার জন্য পর দিন ভোর ৪.৪৫ টা বাজে কাপ্তাই বাস স্ট্যান্ডে নামিয়ে দেয়। আর আমরা ৭ বন্ধু যারা চট্রগ্রাম ছিলাম তারা আগের দিন চলে যায় আমার মামার বাড়ি রাংগুনিয়া। পর দিন খুব ভোরেই সেখানে তাদের সাথে যোগ দেয় ৭ টায়।পরবর্তী কাজ ছিল বোট করে বিলাইছড়ি জন্য যাত্রা করা কারন আমদের ১ম দিনে ৩ টা ঝর্ণা দেখা লাগবে। তাই টাইম মেনেজমেন্ট বিশাল একটা ফ্যাক্ট। বিলাইছড়ি গিয়ে আমাদের না্স্তা করার প্লেন কারন সেখানে আমাদের থাকা খ

াওয়া সব আগে থেকেই মেনেজ করা ছিল। সেই সাথে বোট মাঝি মনসুর ভাইকেও আগে থেকে বুকড করে রেখে ছিলাম।প্রায় ২ ঘন্টার বোট জার্নি কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য আপনার রাতের বাস-জার্নিকে অনেকটাই ভুলিয়ে দিতে বাধ্য যেটার কথা আমি আগেই বলেছিলাম।পথে আর্মির প্রথম চেকপোস্ট পড়বে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। এই ট্যুরে আপনাকে টোটাল ৪ টি এন.আই.ডি কার্ড সংগে নিয়ে যেতে হবে। যদি মিসিং হয়ে যায় তাহলে আর্মি আপনাকে কেম্পে রেখে দিয়ে বলবে বোটকে বলবে আবার কাপ্তাই গিয়ে ফটোকপি করে আনেন। যেটা ট্যুরের টাইমিং পুরোটাই উলোট পালোট করে দিবে।

 

২ ঘন্টা ২০ মিনিট পর বিলাইছড়ি পৌছে সেখানে আগে থেকে ঠিক করা থাকার জায়গায় (রেস্ট হাইজ) ফ্রেশ হয়ে সকালে নাস্তা খেতে গেলাম।সকালে পেকেজে রাখলাম ভাত-ডিম-আলুভর্তা-ডাল।সবায় খেয়ে নিয়ে ১০ টা বাজার আগেই মনসুর ভাইকে নিয়ে ন-কাটা ঝর্ণা এবং মুপ্পোছড়া ঝর্ণার উদ্দ্যেশে যাত্রা করে ৩০ মিনিটের মাথায় বাঙ্গালকাটা পৌছায়। মাঝিকে বলে রাখলে মাঝিই গাইড ঠিক করে আর সেখান শুরু হবে আমাদের ট্রেকিং, ঝিরিপথের যাওয়ার সৌন্দর্য। ১ ঘন্টা ১০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন মুপ্পোছড়া ঝর্ণায়। তারপর সেখানে আপনাদের নিজেদের মতন টাইম কাটিয়ে ফিরে আসার টাইমে পাবেন ণ-কাটা ঝর্ণা।এ ট্রেইলে আরও ৩/৪ টা ছোট ছোট ঝর্ণা দেখতে পাবেন আর বেশ কিছু ক্যাসকেড ছিল। তেমন কঠিন মনে হয়নি এই পথ। মুপ্পোছড়ার সাইজ যত বিশাল সেই তুলোনায় পানি খুবি নগণ্য। তবে ফেরার সময় ণ-কাটা ঝর্নায় গিয়ে আপনি ১ম দিনের ট্রেইলো পুরো ষোলআনা পূরন করতে চাইবেন। যেভাবে এর পানির ফ্লো সাথে এর সৌন্দর্য।

 

এবার ণ-কাটার মায়া ত্যাগ করে ফিরে আসার পালা। মাঝি মামা আমাদের টাইম দিয়েছিল ১.৩০ এর মধ্যে যেন পুনরায় ঘাটে ফিরে আসি না হলে ওনি গাছকাটা দেখাবেন না। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারলেই আপনি গা

??কাটা ঝর্ণা দেখে আসতে পারবেন। আর সবকিছু কথার উপেক্ষা আর আবারও সেই ট্রেইল ঝিরিপথের সংগী হতে ১.০৫ মিনিটে আমরা হাজির। মনসুর ভাই আমাদের নিয়ে চলল গাছকাটা আর্মি ক্যাম্প হয়ে গাছকাটা পাড়ার দিকে।দুপুর ২ টার দিকে সেখানে গাছকাটাঝিরিপথে পৌছালাম। গাইডের সাহায্য ছাড়া ঝিরিপথে অনুসরন শুরু করলাম বাট আমাদের স্টেপটা ভুল ছিল আবার সে আগের জয়াগায় ফিরে এসে পাড়ার একজন দাদাকে অনেকে মূলিয়ে ৩৫০ টাকা রাজি করিয়ে রওনা হলাম। এর পর ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট হাটার পরে পৌছলাম গাছকাটা ডাউন স্ট্রিমে। সাবধানতা খাতিরে বলতে হয় আপস্ট্রিম খুব ভয়ানক, আমরা কয়েকজনে অলরডি আছাড় কেয়ে আরও কাহিল কারন উপরে উঠার পথ পুরোটায় পাথুরে, ঢালু আর পানির প্রবাহ তো আছেই। এর পর নিজেদের মতোন সময় কেটে ৪.১৫ মিনিট নাগাত ফেরার যাত্রা ধরি।

 


৩ টা ঝর্না দেখে, পানিতে দাপাদাপি করে অনেকে সেই লেভেলর ক্লান্ত। ফেরার টাইমে আপনাকে আর গাইড দাদা দরকার পড়বে না আপনি তখন নিজেই নিজের গাইড কারন ট্রেইলটা তুলনামূলক অনেক সহজ বাট লম্বা। যে যার মতন হাটতে লাগল। অবশেষে মাঝি মামা নিয়ে বিলাইছড়ির দিকে আবার যাত্রা করে সেখানে পৌছালাম সাথে উপভোগ করতে লাগলাম বিকালে সূর্যাস্ত। ঘাটে যে যার মতন ফ্রেস হয়ে সবায় খাবার হোটেলে। দুপুরের খাবার খেলাম সন্ধ্যা ৭ টায়। খাবার তখন বেশ অমৃতের মতন। দুপুরে খাবার আপনি যেখানে করেন না কেন আপনাকে সকালেই অর্ডার দিয়ে যেতে হবে।এর পর সবায় যে যার মতন হোটেলে ফিরে গিয়ে ফ্রেশ হতে লাগল আর আমি আর আরাফ পাড়া ঘুরতে ব্যস্ত। সবায় ফ্রেশ হতে হতে আমরা এদিক ঘুরতে লাগলাম পরিবেশটা।

 

সন্ধ্যা নাগাত সবায় খাওয়াতে কেউ আর রাতের খাবার অর্ডার দেয় নায়, সবায় যে যার মতন রাতের জন্য হালকা শুকনো খাবার খেল। বার আমরা চাটগাঁইয়া বদ্দাঅক্কল আদিবাসি কেবাংগা খেতে লাগলাম পরাটা দিয়ে। পাহাড়ে এস

?? যদি আদিবাসি না খায় তাহলে কেমনে কি। পরদিন ধূপপানি দেখার ট্রেইল তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম।২য় দিন ও ২য় রাত : খুব সকালে ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে ট্রলারে করে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে উলুছড়ি পৌছে যাবেন। সকাল বেলার পরিবেশ এখানে আবার  আলাদা, উপরে ঢাকা কিছু উচ্চতায় মেঘ। এটা এক আলাদা অবিজ্ঞতা। আর রাতে খাওয়ার সময় সকালের নাস্তার অর্ডার দিয়ে রাখবেন, নাস্তা ট্রলারএ করে নিবেন । পথে ২টা আর্মি চেকপোস্ট পড়বে (আগে থেকে সবার আই ডি কার্ড এর কপি একজায়গায় গুছিয়ে রাখবেন) ।

 


উলুছড়ি থেকে ছোট ডিঙি নৌকা নিতে হবে, নৌকা ২০ মিনিটের মত নৌকা জার্নি করে আপনাকে নামিয়ে দিবে সেকান থেকে আপনার ট্র্যাকিং শুরু।মোটামুটি ট্র্যাকিং জানলে পথে ২ টা পাহাড় আর অসাধারন ঝিরিপথ পাড়ি দিয়ে আপনি ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মতোন সময় লাগবে কাঙ্খিত ধূপপানি ঝর্ণায় পৌঁছতে। এর এক ঝলক আপনার ৪ ঘণ্টার জার্নিকে ৪ সেকেন্ড ভুলিয়ে দিবে। এত বাতাস ছিল যে ব্যালেন্স রাখা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ১০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার এই ঝর্ণার পানি নিচে পরতে পরতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধোয়ার সৃষ্টি করে। এই জন্যই এর নামকরণ করা হয়েছে ধূপপানি ঝর্ণা।

 

ঝর্ণার কাছে আসার পর আমার অনুভূতি কোনো ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, যাদের সম্ভব আমি বলবো একবার হলেও এই বর্ষায় ঘুরে আসুন। পুরো ট্যুরের সাসপেন্স এখানে জমা ছিল। সেখানে যথেষ্ট সময় পার করে দুপুর ১ টার মধ্যে ধূপপানির মায়া ত্যাগ করে আপনাকে ফিরে আসতে হবে। বিলাইছড়ি অথবা কাপ্তাই পৌছে দুপুরের লাঞ্চ করে নিতে পারেন।গোধূলি লগনে বোটের ছাদে বসে বোনাস হিসেবে দেখবেন নীলাভ কাপ্তাই লেকের পুরোটা সূর্যাস্ত।
আর সাতে কাপ্তাই লেকের আশপাশ পাহাড়। মনে হচ্ছিল আমরা ব্যস্ত জীবন থেকে কতো দূরের শান্ত একটা জীবনে ছিলাম।

 

;

 

সতর্কতা
১) আপনাকে অবশ্যই সময়ের সাথে চলতে হবে। কারন এখানের লোকাল বোট + রাঙ্গামাটি থেকে ফিরতি বাস যারা ঢাকা যাবেন ( রাত ৮:৩০)। তাই যেদিন কাপ্তাই পৌছাবেন সেদিন টিকেট করে নিবেন। আগেই সব কিছু ঠিক করা থাকলে যে কত সুবিধা পাবেন তা যাওয়ার পর বুজতে পারবেন।
২) এখানে Tele t alk আর Robi ছাড়া অন্য কোন সিমের নেটওয়ার্ক থাকে না।
৩) টুরিস্ট গ্রুপ মিলে লোকাল বোটের অপেক্ষা না করে নিজেরা আলাদা বোট ভাড়া করলে সুবিধা পাবেন।
৪) কিসমিস,খেজুর,স্যালাইন,শুকনো খাবার সাথে রাখবেন। অনেকটা সময়ের জন্য ট্রেকিংয়ে থাকতে হয় আর খাবারের আলাদা ব্যবস্থা নাই উলুছড়িতে ট্রেকিংয়ের সময়।
৫) খুব প্রয়োজনীয় ছাড়া কিছু নিবেন না, অতিরিক্ত কাপড় ভ্রমণের প্রধান শত্রু। আপনার অতিরিক্ত ভারি কিছু আপনার ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট করে দিবে।
৬) ঝর্ণা, ঝিরিপথ এবং লেকের পরিবেশ সুন্দর রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।
৭) গ্রুপ ছাড়া এই ধরণের ট্যুর একেবারেই সম্ভব নয়, তবে গ্রূপ যত বড় হবে ভালো, গ্রূপ মেম্বার কম হলে খরচের পরিমানটা বেড়ে যায় আর আগে থেকে মাঝি, কটেজ, খাবার হোটেল ঠিক করে নিলে অনেক সুবিধা হয়।

 

 

যা সাথে থাকতেই হবে
১) ভোটার আইডি কার্ড (1st priority)
(জন্মসনদ/পাসপোর্ট এর ফটোকপি) না থাকলে HSC or SSC এর এডমিট কপি - ৪ কপি
২) যথেষ্ট পরিমান পলিথিন
৩) ট্রেক করার উপযোগী জুতা

 

 

বাজেট
বাস ভাড়া ঢাকা থেকে (৫৫০*২)= ১১০০ টাকা
কাপ্তাই থেকে বিলাইছড়ি বোট (৫৫০০/২৫)= ২২০ টাকা

 


খাবার 
১. সকাল ৪৫ টাকা (ভাত-ডিম-আলু ভর্তা-ডাল)
পরদিনে জন্য ৪০ টাকা ( ৩ পরাটা + ডিম + ডাল বাজি)
২. দুপুরের খাবার ৯০ টাকা (ভাত-মুরগি-আলু ভর্তা-ডাল)
পর দিন দুপুরের খাবার

৮০ টাকা ( ভাত+ সবজি + ডিম + ভর্তা + ডাল + বাশ করুল)
৩. রাতের খাবার ৯০ টাকা ( কেবাংগা) মুরগি কলাপতায় রান্না + ২ টা পরাটা
৪. ন-কাটা - মুপ্পোছড়া গাইড (৫০০/২৫)= ২০ টাকা
৫. গাছকাটা গাইড ( ৩৫০/২৫)=১৪ টাকা
৬. ধুপপানি গাইড (৫০০/২৫) = ২৫ টাকা
৭. ডিঙ্গি নৌকা (১৩০০/২৫) = ৫২ টাকা (টোটাল ৬ টা লাগসে)
৮. কটেজে রাতে থাকা (৩৫০০/২৫)= ১৪০ টাকা (৬রুম ছিল)
৯. বিবিধ ১০০ টাকা
১০. চট্রগ্রাম থেকে ( বাস+ সি.এন.জি) (৬৫+৩০*২)=১৯০ টাকা

ঢাকা থেকে টোটাল খরচ ১৮০০ টাকা আর চট্রগ্রাম থেকে ৯৫০ টাকা।

 

 

মাঝির মোবাইল নং
01825141481 ( মনসুর মামা)
নৌকা বেশ বড় এবং মাঝি অত্যন্ত আন্তরিক ছিল। আর মাঝি নিজেই গাইডের, হোটেল, কটেজ ব্যবস্হা করে দিবে।

 

 

কটেজ স্মৃতিময় বোর্ডিং

খাবার হোটেল : তৃপ্তি হোটেল, বিলাইছড়ি ঘাট থেকে উপরে উঠার সময় হাতের বাম পাশে।

[দয়া করে যত্রতত্র স্হানে ময়লা আবর্জনা ফেলে প্রকৃতির পরিবেশ নষ্ট করবেন না। প্রকৃতির অনন্য উপহার এই অপরূপ সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের]

 

 

 

Source
Link