}

প্রাচীন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নদী কর্ণফুলী। হাজার হাজার বছরের অমর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বয়ে চলছে এই নদীটি। এটি ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত এক নদী যা। বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত কর্ণফুলী নদীর পরিচিতি নম্বর হলো পূর্ব-পাহাড়ী অঞ্চলের নদী নং ৩।

 

 

প্রবাহ
কর্ণফুলীর সৃষ্টি লুসাই পাহাড় থেকে। ভারতের মিজোরামের মমিত জেলার শৈতা গ্রাম হতে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

 

 

বিবরণ
কর্ণফুলী নদীটির বাংলাদেশের অংশ ১৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর গড় প্রস্থ ৪৫৩ মিটার এবং এর আকৃতি সর্পিলাকার। নদীটির মোট দৈর্ঘ ৩২০ কিলোমিটার। কর্ণফুলী নদীর মোহনাতেই বাংলাদেশের প্রধাণ সমুদ্রবন্দর ‘চট্টগ্রাম বন্দর’ অবস্থিত। রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার থেগা নদীর মোহনা বা ঠেগামুখ হতে বড় হরিণার মুখ পর্যন্ত এই ৬ কিলোমিটার কর্ণফুলী ভারত বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ছয় কিলোমিটার নদীর ডান পাশে ভারত এবং বাম পাশে বাংলাদেশ।

 

 

নামকরণের ইতিহাস
কর্ণফুলী নদীর নামের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত আছে

?? কথিত আছে যে, আরাকানের এক রাজকন্যা চট্টগ্রামের এক আদিবাসী রাজপুত্রের প্রেমে পড়েন। এক জ্যোৎস্না রাতে তারা দুই জন এই নদীতে নৌকাভ্রমণ করছিলেন। নদীর পানিতে চাঁদের প্রতিফলন দেখার সময় রাজকন্যার কানে গোঁজা একটি ফুল পানিতে পড়ে যায়। ফুলটি হারিয়ে কাতর রাজকন্যা সেটা উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু প্রবল স্রোতে রাজকন্যা ভেসে যান, তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাজপুত্র রাজকন্যাকে বাঁচাতে পানিতে লাফ দেন, কিন্তু সফল হননি। রাজকন্যার শোকে রাজপুত্র পানিতে ডুবে আত্মহুতি দেন। এই করুণ কাহিনী থেকেই নদীটির নাম হয় কর্ণফুলী। মধ্যযুগীয় পুঁথিতে নদীটিকে কাঁইচা খাল লেখা হয়েছে, মার্মা আদিবাসীদের কাছে নদীটির নাম কান্সা খিওং এবং মিজোরামে কর্ণফুলীর নাম খাওৎলাং তুইপুই।

 

 

কর্ণফুলীর চর
১৮৮৩ সালে কর্ণফুলীর মোহনায় সৃষ্টি হয় লুকিয়া চর। এরপরে ১৮৭৭ সালে আড়াই মাইল দীর্ঘ এবং দেড় মাইল প্রশস্ত জুলদিয়া চ্যানেল সৃষ্টি হয়। ১৯০১ সাল থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে পতেঙ্গা চ্যানেলটি জুলদিয়া চ্যানেল থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট পশ্চিমে সরে যায়। হালদা নদীর সাথে কর্ণফুলী যেখানে মিলেছে, সেই সংযোগস্থলে আছে বিশাল চর, যা হালদা চর হিসাবে পরিচিত। নদীর প্রবাহের কিছু অংশ নাজিরচর ঘেঁষে, কিছু অংশ বালু চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে এবং কিছু মুল স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৩০ সালে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু নির্মাণের আগে নদীর মূল প্রবাহ প্রধানত কুলাগাঁও অভিমুখে বাম তীর ঘেষেই প্রবাহিত হত। কালুরঘাট সেতু হওয

়ার পর সেতুর ডান দিকে আরও একটি প্রবাহের মুখ তৈরি হয়। ফলে নদীর মাঝ পথে সৃষ্টি হয় বিশাল একটি চর- যা কুলাগাঁও চর নামে পরিচিত।

 

 

বর্তমান অবস্থা
কর্ণফুলী নদী দিনদিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। নদীর তলদেশে অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। ডুবু চরের কারণে নদীর স্রোতধারা বিভক্ত। এ কারণে বালি, পলি জমে কর্ণফুলীর মোহনায় চর জাগছে একের পর এক। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শাহ আমানত ব্রিজ থেকে বন্দর মোহনা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় ছোট বড় প্রায় পনেরটি চর জেগে উঠেছে। কর্ণফুলীর তীর থেকে দীর্ঘ নদী পথে চর জেগে উঠায় তিনটি ঘাট দিয়ে যাত্রী পরাপার কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। ব্রিজের নিচে চাক্তাই খালের মুখে জেগে উঠেছে এক কিলোমিটার দীর্ঘ চর। এর একটু নিচে ফিরিঙ্গি বাজার ফিশারী ঘাটে চর জেগে উঠায় ভাটার সময় সাম্পান চলাচল বন্ধ থাকে। ফিশারী ঘাট থেকে ফিরিঙ্গি বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ চর জেগে উঠেছে। চরটি এখন গাছ-বাঁশ বিক্রির আড়ৎ হিসাবে ব্যবহ্নত হচ্ছে। এসব চরের কারণে নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে ভাটার সময় এখানে দীর্ঘ ছয় ঘন্টা ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় কর্ণফুলী তীর দখল করে ১০০ টি লবণ মিল গড়ে ওঠেছে। কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু পশ্চিম তীর থেকে শুরু করে সদরঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ নদী পথে অসংখ্য কাঠের টিম্বার ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে পানির গতি প্রকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। এতে খুব সহজে পলি জমে কর্ণফুলী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

 

 

Link

A6%A3%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%80_%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80" rel="noopener" target="_blank">Link

Link